
জি ২৪ ধণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্থানীয় এক কৃষকের গোরু চুরি করে কর্মী-সমর্থকদের জন্য ভূরিভোজের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু প্রভাবশালী ওই নেতাকে ছেড়ে দিতে রাজী নন কৃষক এফাজ উদ্দিন। তিনি বিএনপির এক নেতা-সহ ১২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরেই মাহমুদুল হাসানকে বহিষ্কার করল দল। ঘটনা বাংলাদেশের মাদারপুর উপজেলার ৬ নম্বর আদারিভিটা ইউনিয়নের। মাহমুদুল ছিলেন ওই ইউনিয়নের সম্পাদক।
ওই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া ও কসাই বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে শনিবার আদালতে পাঠিয়েছে পুলিস। অভিযোগকারী কৃষক এফাজ উদ্দিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। মামলায় মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার মাদারগঞ্জ উপজেলার জুনাইলে উপজেলা ও পৌর মহিলা দল মহিলাদের এক সমাবেশের আয়োজন করে। ওই সমাবেশে অংশ নেওয়া কর্মী-সমর্থকদের জন্য উপজেলার দক্ষিণ কয়ড়া গ্রামে ভূরিভোজের আয়োজন করেন আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং তার স্ত্রী জেলা মহিলা দলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদিক লায়লা খাতুন।
এদিকে, শুক্রবার কৃষক এফাজ উদ্দিনের গোয়াল ঘর থেকে একটি গোরু চুরি হয়। এফাজ উদ্দিন ও তার প্রতিবেশীরা গরু খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন ভোর বেলা বিএনপি নেতা মাহমুদুল হাসানের বাড়িতে লোকজন জড়ো হয়েছে। সেখানেই এফাজ উদ্দিন জবাই করা গোরুর চামড়া দেখে তার গরুটি চিনে ফেলেন। স্থানীয়দের সহায়তায় গরুর চামড়া-সহ কসাইকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এফাজ উদ্দিন। এরপরই পুলিসে অভিযোগ। পুলিস ঘটনাস্থল থেকে যুবদল কর্মী সুমন ও মাংস ব্যবসায়ী বজলুকে আটক করে। এ সময় গরুর চামড়া, মাথা ও কিছু মাংস বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। এর পরই দলের তরফে মাহমুদুলকে বহিষ্কার করা হয়।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি হাসান আল মামুন বলেন, অব্যাহতি পাওয়া বিএনপি নেতা চুরি করা গরু দিয়ে খাবারের আয়োজন করেন। ওই খাবার তাঁর লোকজনের খাওয়ার কথা ছিল। খবর পেয়ে নেতার বাড়ি থেকে হাতেনাতে দুজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে গরুর মাথা, চামড়া ও কিছু মাংসও জব্দ করা হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
