মহাকুম্ভের অমৃত স্নানের জন্য প্রয়াগরাজ সঙ্গমে কোটি কোটি মানুষের জমায়েত, এই বিপুল পরিমাণ ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা মানুষটিকে কি চেনেন?

মহাকুম্ভের অমৃত স্নানের জন্য প্রয়াগরাজ সঙ্গমে কোটি কোটি মানুষের জমায়েত, এই বিপুল পরিমাণ ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা মানুষটিকে কি চেনেন?

Maha Kumbh-2025: চলতি বছরের মহাকুম্ভের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইএএস অফিসার বিজয় কিরণ আনন্দের উপর। তাঁর নেতৃত্বে এক বিশাল ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে চলেছে বলে আশা। প্রসঙ্গত, বিজয় কিরণ আনন্দ হলেন ২০১৯ ব্যাচের ইউপি ক্যাডারের আইএএস অফিসার।

মহাকুম্ভের অমৃত স্নানের জন্য প্রয়াগরাজ সঙ্গমে কোটি কোটি মানুষের জমায়েত

প্রয়াগরাজ: ইতিমধ্যেই প্রয়াগরাজের সঙ্গম তীরে শুরু হয়ে গিয়েছে মহাকুম্ভ। মঙ্গলবারই মহাকুম্ভের প্রথম অমৃত স্নান সম্পন্ন হয়েছে। ফলে হাজার হাজার সাধু-সন্ন্যাসী এবং কোটি কোটি মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে সঙ্গমে ডুব দিয়েছেন। এর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। গত ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে গিয়েছে মহাকুম্ভ। যা চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আশা করা হচ্ছে যে, এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষের মহাকুম্ভে আগমন ঘটবে। চলতি বছরের মহাকুম্ভের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইএএস অফিসার বিজয় কিরণ আনন্দের উপর। তাঁর নেতৃত্বে এক বিশাল ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে চলেছে বলে আশা। প্রসঙ্গত, বিজয় কিরণ আনন্দ হলেন ২০১৯ ব্যাচের ইউপি ক্যাডারের আইএএস অফিসার।

বেঙ্গালুরুতে জন্ম বিজয় কিরণ আনন্দের। তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরীক্ষায় পাশ করেছেন। বাগপত জেলায় এসডিএম হিসেবে প্রথম পোস্টিং পেয়েছিলেন বিজয় কিরণ। সেখানে তিনি ২ বছর দায়িত্ব সামলেছেন। এরপর বরাবাঁকি জেলায় চিফ ডেভেলপমেন্ট অফিসারের পদে তাঁকে বদলি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি মইনপুরি, উন্নাও, ফিরোজাবাদ, বারাণসী এবং শাহজাহানপুরের জেলা কালেক্টর পদের দায়িত্ব সামলেছেন বিজয় কিরণ। ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে যথাক্রমে মাঘ মেলা এবং অর্ধ কুম্ভ মেলার অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। চলতি বছর মহাকুম্ভ ২০২৫-এ চিফ অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি।

দারুণ অভিজ্ঞতা:

দুর্ধর্ষ অভিজ্ঞতার কারণে ২০২৪-এর ইভেন্টের জন্য বিজয় কিরণ আনন্দকে মেলা অধিকারী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। আবার গোরক্ষপুরের ডিএম থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে প্রাইম মিনিস্টারজ অ্যাওয়ার্ড ২০২০ দিয়ে সম্মানিত করেছেন। সিভিল সার্ভিসেস ডে-তে তাঁর হাতে একটি স্মারক আর উদ্ধৃতি তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মহাকুম্ভের দ্বিতীয় স্নানের উৎসব আর মকর সংক্রান্তি একসঙ্গে পড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবারই আখড়ার সাধুদের অমৃত স্নান শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, গঙ্গা এবং সঙ্গমে প্রায় ৩.৫০ কোটি পুণ্যার্থী পুণ্য স্নান সেরেছেন।

১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভের অমৃত স্নান:

দীর্ঘ ১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভের অমৃত স্নান সম্পন্ন হয়েছে। শ্রী পঞ্চায়েতি আখড়া মহানির্বাণী এবং শ্রী শম্ভু পঞ্চায়েতি অটল আখড়ার সাধুরা সঙ্গমে প্রথম অমৃত স্নান শুরু করেছিলেন। তাঁদের মুখে ছিল হর হর মহাদেব ধ্বনি। অমৃত স্নানের পর মহানির্বাণী আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর চেতন গিরিজি মহারাজ সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন যে, প্রতি বারো বছর অন্তর প্রয়াগরাজে পূর্ণ কুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়। আর ১২টি পূর্ণ কুম্ভের পর এই মহাকুম্ভ আসে প্রায় ১৪৪ বছর পরে। এই মহাকুম্ভে যাঁরা স্নান করার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা খুবই সৌভাগ্যবান।