পডকাস্টিং থেকে কি আদৌ প্রচুর উপার্জন সম্ভব? শুনে নিন এক পড়ুয়ার অভিজ্ঞতা 

পডকাস্টিং থেকে কি আদৌ প্রচুর উপার্জন সম্ভব? শুনে নিন এক পড়ুয়ার অভিজ্ঞতা 

 

যাঁরা ভাববেন যে, এখান থেকে প্রচুর অর্থ ও খ্যাতি অর্জন করা সহজ, তাঁরা আসলে সবটা ভাল ভাবে জানেন না। এই বিষয়ে বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরতে পারেন আইআইটি খড়গপুরের ছাত্র তথা হান্ডা এডুকেশন সার্ভিসেস-এর প্রতিষ্ঠাতা রবি হান্ডা। পডকাস্টিং নিয়ে অপ্রিয় সত্য এবং অর্থনৈতিক লড়াইটা সকলের সামনে তুলে এনেছেন তিনি।

আসলে পডকাস্টিংয়ের ক্রমবর্ধমান উন্মাদনা আজকের তরুণ সম্প্রদায়কে ব্যাপক ভাবে আকৃষ্ট করছে। তবে এই মাধ্যমের আসল সত্যটা নিজের মতামত এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন রবি হান্ডা। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে রবি বলেন যে, পডকাস্টিং থেকে কোনও রকম আর্থিক উপযোগিতা লাভ করা একপ্রকার অসম্ভবই বটে! তিনি লিখেছেন যে, পডকাস্টিং থেকে টাকা আয় করা খুবই কঠিন। আমি তো একাধিক উপায়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনও কৌশলই কাজ করেনি।

পডকাস্টিং সম্পর্কিত তিন সমস্যা:

পডকাস্টিংয়ের মাধ্যমে টাকা আয় করার তিনটি প্রধান সমস্যা তুলে ধরেন রবি হান্ডা। এর মধ্যে প্রথমটি হল – বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপ নিয়ে সমস্যা। আসলে এই প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া অর্থ খুবই নগণ্য। প্রত্যেকটি পর্বের জন্য অতিথিদের আমন্ত্রণ করার তুলনায় সবথেকে বেশি কঠিন কাজ হল বিজ্ঞাুপন পাওয়া।

দ্বিতীয় সমস্যাটি হল – অতিথিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা। অতিথির কাছ থেকে টাকা আদায় করাকে নীতির লঙ্ঘন বলে মনে করা হয়। অথচ এই পডকাস্ট থেকে তাঁরাও উপযোগিতা লাভ করেন। কিন্তু এই তত্ত্ব কাজ করে না। আর তৃতীয় বড় সমস্যাটি হল – ব্র্যান্ডের গুরুত্ব। বেশিরভাগ ব্র্যান্ডই তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠাতা বা মার্কেটিং হেডদের মাধ্যমে পডকাস্ট বানাতে পছন্দ করে। তাদের বিশ্বাস, সঞ্চালনার জন্য বিশেষ স্কিলের প্রয়োজন পড়ে না।

শুধুমাত্র ১ শতাংশের জন্য পডকাস্টের সাফল্য:

রবি বলেন যে, পডকাস্টিংয়ের মাধ্যমে অর্থ বা খ্যাতি অর্জনের স্বপ্ন বেশির ভাগ মানুষেরই পূরণ হবে না। তিনি আরও বলেন যে, যাঁরা পডকাস্টিংকে অর্থ এবং খ্যাতির মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করেন, তাঁদের মধ্যে ৯৯% মানুষের জন্য এটি কাজ করবে না।

যদিও পডকাস্টিং নিয়ে রবির লক্ষ্য অর্থ উপার্জন নয়।তিনি এটিকে নিজের আনন্দের জন্য ব্যবহার করেন। সেই সঙ্গে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার পন্থা হিসেবেও নেন। আর রবির প্যাশনেরই প্রতীক হয়ে উঠেছে তাঁর পডকাস্ট Desi FIRE Podcast। আর এই পডকাস্টিং থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ২ লক্ষ টাকারও কম। মজা করে তিনি বলেন যে, আমার কিছু বন্ধু ভাবেন যে, এর থেকে আমি প্রচুর টাকা আয় করি। এমনকী সত্যিটা জেনে আমার আর্থিক উপদেষ্টা পর্যন্ত তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন।

সেই সঙ্গে সদ্য স্নাতক পাশ করা ছাত্র, এমবিএ পড়ুয়া অথবা তরুণ-তরুণীদের সতর্ক করে রবি জানান যে, কেরিয়ার হিসেবে পডকাস্টিং বেছে নেওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, পডকাস্টিং দারুণ অভিজ্ঞতা। কিন্তু এটাকে কেরিয়ার হিসেবে ভাবা উচিত নয়।