মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি হয়! সেই চিনা মাঞ্জায় কোন বিষাক্ত পদার্থ থাকে? শুনে নিন

মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি হয়! সেই চিনা মাঞ্জায় কোন বিষাক্ত পদার্থ থাকে? শুনে নিন

China Manjha- আসলে এই মাঞ্জার জন্য গলা কেটে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। আবার চিনা মাঞ্জার কারণে গুরুতর জখম হয়েছেন অনেকেই।

News18

কলকাতা: বর্তমানে সারা দেশের কাছে যেন মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে চিনা মাঞ্জা বা চাইনিজ মাঞ্জা। দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার এবং অন্যান্য রাজ্যেরও একাধিক মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী চিনা মাঞ্জা। আসলে এই মাঞ্জার জন্য গলা কেটে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের।

আবার চিনা মাঞ্জার কারণে গুরুতর জখম হয়েছেন অনেকেই। শুধু মানুষই নয়, এই চিনা মাঞ্জার শিকার হচ্ছে পাখিরাও। মকর সংক্রান্তিতে উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে এক কনস্টেবল জড়িয়ে পড়েছে চিনা মাঞ্জার ফাঁসে। এর মধ্যে ওই কনস্টেবলের অবস্থা সঙ্কটজনক। এমনিতে চিনা মাঞ্জা বহু রাজ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই চিনা মাঞ্জা আসলে কী। সেটাই জেনে নেওয়া যাক।

বহু ঘটনাই প্রকাশ্যে:

মকর সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। আর এই উৎসব উদযাপন করতে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য চিনা সুতো ব্যবহার করা হচ্ছে। যার বলি হয়েছেন বহু মানুষ। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে এই সুতোর ফাঁসা জড়িয়ে পড়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে রয়েছেন এক পুলিশকর্মীও। এর পাশাপাশি লখনউয়ে এক তরুণের গলায় চেপে বসেছিল এই চিনা সুতো। যার জেরে ১৫টি সেলাই পড়েছে।

গুজরাতে মাঞ্জার ফাঁসে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এই তালিকায় রয়েছে চার বছরের এক শিশু কন্যাও। রাজস্থানেও চিনা মাঞ্জার ফাঁসে পড়েছেন অনেকেই। আবার নাসিকে এই চিনা সুতোর কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির।

চিনা মাঞ্জা কী?

অন্যান্য মাঞ্জার তুলনায় আলাদা সুতো ব্যবহার করা হয় চিনা মাঞ্জায়। অনেকে আবার একে প্লাস্টিক মাঞ্জা বলেও ডাকেন। সাধারণত নাইলন এবং ধাতব গুঁড়ো থেকে এই মাঞ্জা তৈরি হয়।

শুধু তা-ই নয়, এর সঙ্গে মেশানো হয় অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এবং দস্তা। এরপরে সেই সুতোকে আরও ধারাল করার জন্য সেই সুতোয় কাচ অথবা লৌহ চূর্ণের প্রলেপ দেওয়া হয়। যার কারণে সেই মাঞ্জা ভয়ঙ্কর ধারাল বা ঘাতক হয়ে ওঠে।

এই মাঞ্জা প্লাস্টিকের মতো দেখায় এবং তা স্ট্রেচেবলও বটে! তাই যখন মানুষ এটি টানাটানি করেন, তখন তা ভাঙে বা ছিঁড়ে যায় না। বরং সেটা আরও বেড়ে যায়। আর এই মাঞ্জার সুতোয় ঘুড়ি ওড়ানো হলে একটা কম্পনও তৈরি হয় এতে।

এই সমস্ত রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা:

চিনা মাঞ্জা বা চাইনিজ মাঞ্জার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। যাঁরা এই সুতো বেচা-কেনা করেন, তাঁদের ১৯৮৬ সালের পরিবেশ রক্ষা আইনের ১৫ ধারার আওতায় ৫ বছর পর্যন্ত কারাবাস এবং ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সাজা হতে পারে। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে এই চিনা মাঞ্জার বিক্রয় ও ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

(Feed Source: news18.com)