
তেল ও গ্যাসের বিপুল মজুত রয়েছে নরওয়েতে। কিন্তু তারপরেও ইলেকট্রিক ভেহিক্যালের দিকে ঝুঁকছেন সে দেশের নাগরিকরা। এর পিছনে কী কারণ? চর্চা চলছে গোটা বিশ্ব জুড়েই। ওএফভি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে জিরো এমিশনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপে সেই দিকেই আরও একধাপ এগোল দেশ।
জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে নরওয়েতে মোট ১,২৮,৬৯১ নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। এর মধ্যে ১,১৪,৪০০টি গাড়ি ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল। প্রসঙ্গত, গত ১২ বছরে ইভি-কে আপন করে নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক নরওয়েবাসী। পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতো।
২০১২ সালে নরওয়েতে ২.৮ শতাংশ ইভি গাড়ি চলত। এই সময় পরিবেশ সচেতনতায় প্রচার শুরু করে সে দেশের সরকার। কর ছাড়, টোল মকুব, বিনামূল্যে পার্কিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট লেন ব্যবহারের মতো সুবিধা ঘোষণা করা হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ইভি-এর ব্যবহার।
সবচেয়ে বেশি বিক্রি টেসলার: নরওয়েতে ইলেকট্রিক ভেহিক্যালের ১৯ শতাংশ বাজার দখল করে রেখেছে টেসলা। ইলন মাস্কের কোম্পানির গাড়ির চাহিদাই এখানে সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ভক্সওয়াগন, টয়োটা, ভলভো এবং বিএমডব্লিউ। ইদানীং কিছু চাইনিজ সংস্থাও নরওয়েতে ইভি বিক্রি শুরু করেছে। ২০২৫ সালে নতুন চাইনিজ ব্র্যান্ড এবং মডেলগুলো ক্রেতাদের কাছে কতটা জনপ্রিয় হতে পারে সেটাই দেখার।
ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল বিক্রির দিক থেকে ভারত অনেক পিছিয়ে। ইদানীং রাস্তাঘাটে দু’চাকা কিংবা চার চাকা ইভি দেখা যায় বটে, কিন্তু বাজার অনেক ছোট। নরওয়ের সঙ্গে কোনও তুলনাই চলে না। ইন্ডিয়া ব্র্যান্ড ইকুইটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে বিক্রি হওয়া মোট গাড়ির মাত্র ২ শতাংশ ছিল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল।
বর্তমানে ভারতের ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার দখল করে রেখেছে টাটা, মহিন্দ্রা, হোন্ডাই, এমজি-এর মতো ব্র্যান্ড। চলতি বছরে দেশের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা মারুতি ইভি নিয়ে আসতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
ফোর হুইলার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে এখনও সেভাবে ইভি চার্জিং পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। এটাই ইভি বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে টু হুইলার এবং থ্রি হুইলার ইভি রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট বিক্রি হওয়া থ্রি হুইলারের ৫০ শতাংশই ছিল ইভি। টু হুইলারের ক্ষেত্রে এই শেয়ার ছিল ৫ শতাংশ।
