
Kanpur News: ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের কানপুরের। সেই সময়ে সেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জনতা দর্শন কর্মসূচি চলছিল যেখানে নাগরিক তাঁদের দাবি নিয়ে প্রশাসকের দরবারে উপস্থিত হতে পারেন। এখানেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং-এর কাছে হাজির হন এক যুবক।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ‘ডেপুটি এসপি’ চাইলেন বন্দুকের লাইসেন্স
Om Babu Mishra, Kanpur: আসল আর নকলে এখন তফাত করা দায়। ছদ্ম পরিচয় দিয়ে কত লোকে যে অন্যের সুবিধা নেয়, তার ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে পুলিশ সেজে প্রতারণার ঘটনা প্রায়ই উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। এ সব ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন সাধারণ নাগরিক। কিন্তু ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশের পরিচয় দিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রতারণার ঘটনা অভিনব তো বটেই। আর সেই কারণেই উদ্দেশ্য যা-ই থাক, তা সফল হল না, প্রতারকের কপালে জুটল হাজতবাস।
জানা গিয়েছে যে ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের কানপুরের। সেই সময়ে সেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জনতা দর্শন কর্মসূচি চলছিল যেখানে নাগরিক তাঁদের দাবি নিয়ে প্রশাসকের দরবারে উপস্থিত হতে পারেন। এখানেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং-এর কাছে হাজির হন এক যুবক। তিনি জানান যে তাঁর নাম ধর্মেন্দ্র শর্মা। নিজেকে তিনি হরিয়ানার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ বলে পরিচয় দেন। জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং ওই যুবকের কাছে কী প্রয়োজন জানতে চাইলে ধর্মেন্দ্র শর্মা বন্দুকের লাইসেন্সের দাবি করেন।
এখান থেকেই খুব সম্ভবত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মনে সন্দেহের উদয় হয়। তিনি ধর্মেন্দ্র শর্মার আইডি কার্ড দেখতে চান। ধর্মেন্দ্র তা দেখানও অবলীলায়। সেই কার্ডে চোখ পড়তেই সন্দেহ বাড়তে থাকে। কেন না, জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং দেখেন যে আইডি-তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি চাকেরি থানার স্ট্যাম্প রয়েছে। ফলে, তিনি কার্ডটি যাচাই করতে পাঠান।
এই প্রসঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসের কম্পিউটার প্রোগ্রামার রণধীর সিং বলেন, যাচাইয়ের সময় এই আইডি কার্ডটি জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর পর ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং জাল আইডি কার্ডের বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে কোতোয়ালি থানা থেকে পুলিশ ডেকে ধর্মেন্দ্র শর্মাকে গ্রেফতারও করিয়েছেন।
অন্য দিকে, এডিসিপি ইস্ট মনোজ পান্ডে এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, ধর্মেন্দ্র শর্মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আইডি নকলের গোটা বিষয়টি বেরিয়ে আসে এবং তিনি তাঁর অপরাধ স্বীকারও করে নেন। এখন এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র শর্মাকে পুলিশ জেরা করছে যাতে বন্দুকের লাইসেন্স চাওয়ার কারণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যও বেরিয়ে আসে।
