FM Nirmala Sitharaman’s Budget Day Sarees: রেশম-জমিনে উজ্জ্বল মধুবনী নকশা! পদ্মশ্রী জয়ী শিল্পীর তৈরি মিথিলার শাড়ির সঙ্গে শালের যুগলবন্দিতে বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর

FM Nirmala Sitharaman’s Budget Day Sarees: রেশম-জমিনে উজ্জ্বল মধুবনী নকশা! পদ্মশ্রী জয়ী শিল্পীর তৈরি মিথিলার শাড়ির সঙ্গে শালের যুগলবন্দিতে বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর

FM Nirmala Sitharaman’s Budget Day Sarees: শনিবার তিনি পরেছিলেন বিহারের মধুবনী প্রিন্টের শাড়ি। অফ হোয়াইট জমিনে লাল, নীল, হলুদ,খয়েরি নকশায় ফুটে উঠেছে সনাতনী ঐতিহ্য। জড়িপাড়ের মধুবনী শাড়ির সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সাজে যোগ্য সঙ্গত করেছিল সাদা শাল।

নির্মলা পরেছিলেন বিহারের মধুবনী প্রিন্টের শাড়ি

নয়াদিল্লি: প্রত্যেক বছর বাজেট পেশ করার সময় আলোচনার অন্যতম বিষয় থাকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের শাড়ি। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হল না। প্রতি বারের মতো এ বারও অর্থমন্ত্রী বেছে নিয়েছিলেন হ্যান্ডলুম শাড়ি। শনিবার তিনি পরেছিলেন বিহারের মধুবনী প্রিন্টের শাড়ি। অফ হোয়াইট জমিনে লাল, নীল, হলুদ,খয়েরি নকশায় ফুটে উঠেছে সনাতনী ঐতিহ্য। ব্যাঙ্গালোর সিল্কের কাপড়ের উপর আঁকা হয়েছে মাছ ও পদ্মের মোটিফ৷ জরিপাড়ের মধুবনী শাড়ির সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সাজে যোগ্য সঙ্গত করেছিল সাদা শাল। যৎসামান্য গয়নার মধ্যে ছিল দুল, চেন এবং সোনার বালা৷

প্রসঙ্গত বিহারের মিথিলা প্রদেশের শাড়ি মধুবনী ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প৷ সূক্ষ্ম ফ্লোরাল মোটিফ এবং জ্যামিতিক নকশা মধুবনী শিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য৷ উজ্জ্বল রং, সূক্ষ্ম রেখায় ধরা পড়ে প্রকৃতি ও পৌরাণিক বিষয়৷ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় নির্মলা যে শাড়ি পরেছিলেন, সেটা কার্যত মধুবনী শিল্প তথা পদ্ম পুরস্কারজয়ী শিল্পী দুলারিদেবীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য৷ মধুবনী শিল্পে দুলারিদেবীর দক্ষতা অসামান্য৷ ২০২১ সালে তিনি সম্মানিত হন পদ্মশ্রী সম্মানে৷ মিথিলা আর্ট ইনস্টিটিউটে দুলারিদেবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী৷ মধুবনী শিল্প নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়৷ সে সময়ই এই শাড়িটি দুলারিদেবী উপহার দেন নির্মলা সীতারামনকে৷

নির্মলা সীতারামণ ও মধুবনী শিল্পী দুলারিদেবী

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের হ্যান্ডলুম শাড়িপ্রীতির কথা বহুচর্চিত৷ বছরভর তো বটেই৷ বিশেষ করে বাজেট পেশ করার দিন তিনি সাধারণত বেছে নেন বিশেষ কোনও হ্যান্ডলুম শাড়ি৷ দেশের কোনও প্রান্তের বয়নশিল্পীদের হাতে বোনা শাড়ি তিনি পরেন বাজেট পেশের দিন৷ ২০১৯ সালে তাঁর জীবনে প্রথম বাজেট পেশ করার দিন তিনি পরেছিলেন গোলাপি রঙের শাড়িতে সরু জরির পাড় মঙ্গলগিরি৷

তার পরের বছর ২০২০ সালে অর্থমন্ত্রীর পরনে ছিল উজ্জ্বল হলুদ রঙের সিল্ক৷ সঙ্গে হাল্কা আকাশি রঙা সরু পাড়৷

২০২১-এ তিনি পরেছিলেন লাল-সাদা পচমপল্লী শাড়ি৷ হায়দরাবাদের পচমপল্লী গ্রামের নামেই নামকরণ এই হ্যান্ডলুম শাড়ির৷ ঐতিহ্যবাহী সেই দক্ষিণী শাড়িতে ছিল ইক্কত মোটিফ৷

এক বছর পর ২০২২-এ নির্মলা বাজেট পেশ করার সময় পরেছিলেন খয়েরি রঙা বোমকাই শাড়ি৷ ওড়িশার এই হ্যান্ডলুম শাড়ি জুড়ে ছিল খয়েরি ও লাল সুতোর কাজ৷

২০২৩ সালে নির্মলা বেছে নিয়েছিলেন উজ্জ্বল লাল ও কালোর যুগলবন্দিতে হ্যান্ডলুম শাড়ি৷ লাল জমিনের সঙ্গে চওড়া কালো টেম্পল পাড়, অর্থাৎ যে ধরনের পাড়ে থাকে মন্দিরের চূড়ার মোটিফ৷ শাড়ির পাড়ে ছিল জরির ছোয়াঁও৷ এছাড়াও শাড়িতে ছড়িয়ে ছিল সূক্ষ্ম কসুটি কাজ৷

গত বছর অর্থাৎ ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করার সময় নির্মলা সীতারমণ পরেছিলেন বাংলার একান্ত আপন কাঁথা স্টিচের শাড়ি৷ ঘন নীল শাড়ি জুড়ে ছিল সাদা সুতোর ঘন বুনোট কাঁথাকাজ৷ ভাগলপুরী তসর সিল্কের উপরই করা হয়েছিল নক্সীকাঁথার কাজ।

এর পর ২০২৪-এই নির্বাচনোত্তর কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার নির্মলা পরেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মঙ্গলগিরি শাড়ি৷ সাদা এবং ম্যাজেন্টা (বেগুনি রঙের এক ধরন) কম্বিনেশনে বোনা শাড়ির জমিন জুড়ে ছিল জরির চৌখুপ্পি ডুরে বা চেক৷ শাড়ির পাড়ে ছিল জরির হাল্কা সূক্ষ্ম কাজ৷ প্রসঙ্গত অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া থেকে ১২ কিমি দূরে মঙ্গলগিরি প্রাচীন তীর্থস্থান৷ এই তীর্থস্থান ঘিরেই গড়ে ওঠে বয়নকেন্দ্র৷ স্থানীয় শিল্পীদের বোনা শাড়ির নাম মুখে মুখে হয়ে যায় ওই স্থান অর্থাৎ মঙ্গলগিরির নামে৷

মূলত সুতিতে বোনা এই শাড়ি সিল্কেরও হয়৷ সাধারণত মৃদু রঙের জমিন ও গাঢ় রঙের পাড় এই শাড়ির বৈশিষ্ট্য৷ শাড়ির আঁচল ও পাড়ে থাকে জরির কাজ৷ শাড়ির জমিনে থাকে ছোট ছোট চেক৷ মূলত আদিবাসী শিল্পের মোটিফ থেকে অনুপ্রাণিত হয় মঙ্গলগিরি শাড়ির জরির কাজ৷

প্রতি বছরের মতো এ বারও নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশের দিন ভারতীয় সংস্কৃতির উজ্জ্বল বার্তা তুলে ধরলেন৷