মদ্যপ স্বামী বাড়িতে মজুত রাখা ধান বাজারে বিক্রি করে ফের মদ খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী রুখে দাঁড়াতেই সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বসে।
প্রতীকী ছবি
প্রিয়ব্রত গোস্বামী, বাঁকুড়া: মদ্যপ স্বামী বাড়িতে মজুত রাখা ধান বাজারে বিক্রি করে ফের মদ খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী রুখে দাঁড়াতেই সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বসে। অগত্যা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয়েছিল খন্ডযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর লাঠির আঘাতে মৃত্যু হয় স্বামীর। এমনই ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ার ওন্দা থানার কল্যাণী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিনোদনগর এলাকায়। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে।
বাঁকুড়ার ওন্দা থানার কল্যাণী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিনোদনগর এলাকার বাসিন্দা বিকাশ মাল ছিলেন পেশায় দিনমজুর। মদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির কারণে বেশ কয়েকবছর ধরে তাঁর কাজকর্ম লাটে ওঠে। তিন ছেলে মেয়েকে কার্যত একা হাতে বড় করে তোলেন স্ত্রী সুলেখা মাল। বড় মেয়ের বিয়েও দেন সুলেখা। কষ্ট করে কয়েকটি ছাগল কিনে তা পালন করে উপার্জনের রাস্তা তৈরী করেছিলেন সুলেখা। সম্প্রতি পরিবারে পালিত সেই ছাগল চরাতে যাওয়ার নাম করে সেগুলি বাইরে বিক্রি করে মদ্যপান করতে থাকেন বিকাশ মাল। গতকাল ঘরে মজুত বস্তা তিনেক ধান বিক্রি করে মদ্যপানের পরিকল্পনা করেছিলেন বিকাশ। বিক্রির উদ্দেশে সেই ধান বিকাশ বাড়ির বাইরে নিয়ে যেতেই তা নজরে পড়ে স্ত্রী সুলেখার। পরিবারের একমাত্র সম্বল ওই তিন বস্তা ধান বিক্রিতে বাধা দিলে বাড়ির উঠোনেই ধস্তাধস্তি শুরু হয় দুজনের মধ্যে। এরই মাঝে সুলেখা বড় একটি লাঠি তুলে বিকাশকে মারধর করতে শুরু করেন।
অভিযোগ স্ত্রীর লাঠির আঘাত মাথায় লাগতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিকাশ। পরে তাঁকে ওন্দা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গতকাল রাতেই অভিযুক্ত স্ত্রী সুলেখা মালকে গ্রেফতার করে ওন্দা থানার পুলিশ। আজ ধৃত মহিলাকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ১০৩(১) বিএনএস ধারায় খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আদালত অভিযুক্তকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। স্বামীকে খুনের কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত স্ত্রী সুলেখা।
(Feed Source: news18.com)