Salil Chowdhury Book | Kolkata Book Fair 2025: ‘ফ্রায়েডরাইস-মাংস রাঁধতেন জব্বর, জেলবন্দি লোকটারও ভূতে ভয়’! শতবর্ষে অচেনা সলিল…

Salil Chowdhury Book | Kolkata Book Fair 2025: ‘ফ্রায়েডরাইস-মাংস রাঁধতেন জব্বর, জেলবন্দি লোকটারও ভূতে ভয়’! শতবর্ষে অচেনা সলিল…

শুভপম সাহা: গতবছর ডিসেম্বরের ঠিক শেষ দিকের ঘটনা। ‘সেই বাঁশিওয়ালা’র পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল গণনাট্য সংঘের রাজ্য দফতরে। কিংবদন্তি সলিল চৌধুরী (Salil Chowdhury) সম্পর্কিত নানা মনোজ্ঞ আলোচনা বন্দি ছিল দু’মলাটে। ১২০০ কপি নিমেষে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। সেই বই পুণরায় ছাপানোর কথা যখন ভাবা হচ্ছে ঠিক তখনই, ‘সলিল চৌধুরী জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি’ হরফ-সুরে বেঁধে দিলেন ভক্তদের। সারা রাজ্য জুড়ে সলিলচর্চার যে বহুমাত্রিক কাজ চলছে তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সলিল চৌধুরী স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হল। এবার ‘নীল ধ্রুবতারা’য় ধরা দেবেন অচেনা সুরস্রষ্টা-কবি-নাট্যকার সলিল।

রামমোহন লাইব্রেরির রায়া দেবনাথ সক্ষাকক্ষে বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ছিলেন অধ্যাপক পল্লব সেনগুপ্ত, সংগীতশিল্পী কল্যাণ সেন বরাট, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, গণসংগীত শিল্পী ,গীতিকার ও সংগঠক কঙ্কন ভট্টাচার্য। ‘নীল ধ্রুবতারা’র সম্পাদনা করেছেন সৌমিত্র লাহিড়ী ও শ্যামল ভট্টাচার্য। শ্যামল বললনে, ‘২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সলিল চৌধুরী জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির জন্ম। এই রামমোহন লাইব্রেরিতেই আমরা কয়েকজন বসেছিলাম। দেখতে দেখতে দু’বছর হয়ে গেল সলিল সমারোহে আমাদের সলিল যাপন। ৩০ বছর আগে মানুষটা প্রয়াত হয়েছেন। তাঁকে খুঁজে দেখছি আমরা। সাড়ে তিন হাত মানুষটা যে কী ছিলেন, তা বলে বোঝানো যাবে না। সংগীতের জগতের বাইরেও রয়েছে আরেক দুনিয়া। ক’জনই বা আর জানেন, কী অপূর্ব তিনি রাঁধতেন ফ্রায়েডরাইস-মাংস, ভাবুন তিনি একজন জেলবন্দী, কত আন্দোলনের সাক্ষী, তাঁরই আবার ছিল ভূতে প্রচণ্ড ভয়।’

পবিত্র সরকার, অশীতিপর মানুষটি রোজ সকালে আজও নিয়ম করে রবীন্দ্র সংগীত চর্চা করেন। সলিল শ্রদ্ধায়, তাঁরই সুরে ‘ও আয়রে ও ভাইরে’ গানটি গেয়ে শোনালেন। তিনি ভূয়সী প্রশংসা করলেন গণনাট্য সংঘের। ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক, নাট্যসমালোচক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকের মতো পরিচয় তাঁর। পবিত্র বলেন, ‘আমি সলিল চৌধুরীকে চেনার আগে তাঁর গান শুনেছি। গণনাট্যকে আমার অভিননন্দন। যেভাবে তারা সলিলকে জেলা এবং রাজ্য়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে তা অতুলনীয়। ওরা কাজটি গুটিয়ে, গুছিয়ে নিয়েছে। নতুন এই শক্তি অব্যাহত থাকুক, তা যেন বিশ্রামে না যায়।’

কল্যাণ সেন বরাট কথা বললেন সলিলের কাজ নিয়েই। বর্ষীয়ান শিল্পী বললেন, ‘সলিল চৌধুরীর রানার তৈরির পর আর কিছু প্রমাণের দরকার ছিল না। প্রথমে শুনে তো বুঝিনি। পরে বুঝলাম ওয়েস্টার্ন সিম্ফোনি ছ’বার বদলেছেন! শুধু ‘সা’ নিয়েই খেলেছেন। রানার আমাদের বুকের মাটি হয়ে আজও ছুটছে। তবে সংগীতের স্বর্ণযুগের প্রিলিউড বললে ‘কোনও এক গাঁয়ের বধূর’ কথাই বলব। একটা গান নিয়ে ২-৩ ঘণ্টা কথা বলা যায়। সলিলকে নিয়ে সারা দেশ জুড়ে কাজ চলছে। সলিল ফাউন্ডেশন কাজ করছে কর্পোরেট ধাঁচে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ওরা মুম্বইতে অনুষ্ঠান করবে। শুধু সলিল শ্রদ্ধায়। সলিল ছিলেন, আছেন ও থাকবেন।’

৪৬৪ পাতায় অচেনা সলিল নিঃসন্দেহে সলিলপ্রেমীদের কাছে সম্পদ হতে চলেছে। বহু মানুষের লেখার সঙ্গেই রয়েছে সলিলের কবিতার সংকলনও। বইমেলায় ৬টি স্টলে আপাতত এই বই পাওয়া যাবে। তালিকায় রয়েছে গণতান্ত্রিক লেখক সংঘ, গণশক্তি, যুবশক্তি, একুশ শতক, যারা যাযাবর ও ন্যাশনাল বুক এজেন্সিতে। বইয়ের দাম ধার্য করা হয়েছে ৫০০ টাকা। তবে স্টলভিত্তিক ছাড়ে সেই দাম কিছুটা কমবে বটে। আপাতত ৫০০ কপি ছাপানো হয়েছে। ফলে দ্রুত সংগ্রহ করে নেওয়াই ভালো।

(Feed Source: zeenews.com)