
#মুম্বই: মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখনও কাটেনি সরকারের জট। তবে নতুন দাবি করেছেন শিবসেনার বিদ্রোহী বিধায়ক একনাথ শিন্ডে। তিনি দাবি করেছেন, প্রকৃত শিবসেনার নেতা তিনিই। শিবসেনার যে রাজনৈতিক আদর্শ থাকার কথা, তা অনুসারে বিজেপি-র সঙ্গেই শিবসেনার প্রকৃত জোট হওয়ার কথা। কিন্তু সে পথে হাঁটছে না বর্তমান শিবসেনা নেতৃত্ব। সেই কারণে প্রকৃত শিবসেনা তাঁরাই। তাই শিবসেনার প্রতীক দাবি করেছেন তাঁরাই। এখনও পর্যন্ত যা খবর পাওযা গিয়েছে, তাতে একনাথ শিন্ডে দাবি করেছেন, তাঁর দিকে ৪০-এর বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, পাশাপাশি ১৭ জন শিবসেনা সাংসদও তাঁর পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও সমর্থনের যে পত্র প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ৩৪ জন বিধাযকের নাম রযেছে। এ দিকে গুয়াহাটির যে হোটেলে শিবসেনার বিধায়করা রয়েছেন, সেই হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তৃণমূলের সমর্থকরা।
যদিও শিন্ডের সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা করেছে এনসিপি। এনসিপির তরফ থেকে নেতা জয়ন্ত পাটিল বলেছেন, অসমে নিজের মতো করে শক্তি প্রদর্শন করতেই পারেন একনাথ। কিন্তু প্রকৃত অর্থে শক্তি প্রদর্শন করতে গেলে তাঁকে মুম্বই আসতে হবে। একনাথ মুম্বই আসুন, এসে নিজের শক্তি প্রদর্শন করুন, তাহলেই ক্ষমতা বোঝা যাবে। জয়ন্ত পাটিল আরও বলেছেন, আমরা সম্পূর্ণ রূপে উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে আছি। আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি, আমরা তাঁকে জানিয়েছি, এনসিপির পূর্ণ সমর্থন আছে তাঁর প্রতি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছেড়েছেন, তার মানে এই নয় যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এ ভাবে কোননও নিশ্চয়তায় পৌঁছে যাওযার মানে হয় না। আমার মনে হয়, যে বিদ্রোহী বিধায়কদের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা উদ্ধবের সামনে দাঁড়ালেই পরিস্থিতি অনেকটা বদলে যাবে।
বৃহস্পতিবার সকালেই বিশেষ বৈঠকে বসেছিল এনসিপি। এনসিপি প্রধান শরদ পাওযারের বাসভবনে এই বৈঠক শুরু হয। ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ পাটিল, মন্ত্রী জয়ন্ত পাটিল-সহ অনেকেই। অন্য দিকে শিবসেনা প্রধান সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ওঁরা যখন মু্ম্বইয়ে আসবেন, তখনই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমাদের মুখ দেখে কী মনে হচ্ছে, আমরা চিন্তায় আছি? যাঁরা বালাসাহেব ঠাকরের ভক্ত, তাঁরা কখনই এই দল ছেড়ে যেতে পারেন না।
