East Medinipur News: ঝলমলে আলো, ফুল দিয়ে সাজানো গেস্ট হাউস! আচমকা বিয়েবাড়ির সব বদলে গেল পুলিশি হানায়

East Medinipur News: ঝলমলে আলো, ফুল দিয়ে সাজানো গেস্ট হাউস! আচমকা বিয়েবাড়ির সব বদলে গেল পুলিশি হানায়

জাঁকজমক বিয়ের অনুষ্ঠানে পুলিশি হানা

বিয়ের মন্ডপে প্রশাসনের হানা

ময়না: রীতিমত গেস্টহাউস ভাড়া করে ফুলের সাজসজ্জা নিয়ে সাজানো হয় মণ্ডপ। সন্ধ্যা নামতেই আলোর রোশনাই ভরে ওঠে চারপাশ। জাঁকজমক এই বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে শুরুর আগেই হানা দেয় পুলিশ সহ ব্লক প্রশাসন। আর তাতেই বদলে যায় ওই বিয়ের আসরে ছবিটা। বিবাহ আসরে নাবালিকার বিয়ে বন্ধ ময়নায়। সকাল থেকে শুরু হয়েছে গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে অন্যান্য বিয়ের সামগ্রী উপকরণ। সন্ধ্যা হতেই একদিকে চলছে রান্না, অন্যদিকে আলোর রোশনাই। প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন করেছে বাড়ির নাবালিকা মেয়ের। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলায় শিক্ষিতের হার বেশি। আর এই জেলাতেই আবার নাবালিকার বিয়ের হার বেশি। নাবালিকা বিয়ে আটকাতে তৎপর প্রশাসন। এই নিয়ে জেলা জুড়ে বিভিন্ন স্কুলে চলছে সচেতনতা শিবির। আর সেই সব নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একটি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার এক ব্যক্তি গেস্ট হাউস ভাড়া করে রীতিমত ধুমধামের সঙ্গে আয়োজন করেছে নাবালিকার বিয়ে। জানা যায় নাবালিকার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের পরমানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মথুরিচক গ্রামে।

সন্ধে থেকে আলোর রোশনাই এবং সানায়ের সুরে মেতে উঠেছিল বিয়ে মন্ডপ। কেইবা জানত শেষ পর্যন্ত এমনই পরিণতি হবে। এই নাবালিকার বিয়ের খবর স্থানীয় সূত্র মারফত জানতে পারে ময়না ব্লকের বিডিও সমীর পান। তিনি তৎক্ষণাৎ নড়েচড়ে বসেন। তিনি তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পাঠান ময়না ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অনির্বাণ সাহা এবং ময়না থানার পুলিশ প্রশাসনকে। ততক্ষণে কুটুম, বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত হতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তখনও বর সহ বরযাত্রী এসে পৌঁছায়নি। ব্লক প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে একটা নীরবতা বিরাজ করে এলাকায়। ডাক করা হয় নাবালিকার বাবা ও মাকে।

প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ময়না ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অনির্বাণ সাহার হাতে আধার কার্ডের কপি পড়তেই পরিষ্কার। নাবালিকার বাবা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান তার মেয়ের। বয়স ১৭ বছর ৩ মাস। তিনি ভুল করেছেন, বলে এমনই মন্তব্য করেন। নাবালিকার মা জানান, “আমরা ভুল করেছি, আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা আত্মীয়দের খাওয়ানোর পর বিয়ে বন্ধ করে দেব। যতদিন না পর্যন্ত মেয়ের বয়স ১৮ বছর হয় ততদিন মেয়ের বিয়ে দেবে না”, এমনই লিখিত জানালেন মেয়ের বাবা ও মা। কিছুক্ষণের মধ্যে আনন্দের সানাই, আলোর রোশনাই সব বন্ধ হয়ে যায়। ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ হয় নবালিকার বিয়ে।

সৈকত শী