
কোনও ব্যক্তিকে পাসপোর্ট দেওয়া বা তা দিতে অস্বীকার করা নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট যে মন্তব্য করেছে, তাকে আরও একাধিক রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব স্বাগত জানাল।
সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কোনও এক ব্যক্তির ভাই যদি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হন, তার জন্য সেই ব্যক্তির পাসপোর্ট ইস্যু করার আবেদন কখনও খারিজ করা যায় না। একজন আবেদনকারীকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে কিনা, সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে, সেই আবেদনকারী কী কী কার্যকলাপ করছেন, তার উপর ভিত্তি করে।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের তরফে ঘোষণা করা এই পর্যবেক্ষণকে সাদরে গ্রহণ করেছে বারামুল্লার সাংসদ ইঞ্জিনিয়র রশিদের নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি (এআইপি)। অন্যদিকে হুরিয়ত নেতা মীওয়েজ উমর ফারুক এই প্রসঙ্গে বলেন, হাইকোর্টের এই রায় সেই অসংখ্য মানুষের মনে আশার আলো প্রজ্জ্বলিত করে দিল, যাঁদের এত দিন পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি শুধুমাত্র তাঁদের কোনও আত্মীয় সন্ত্রাসে যুক্ত থাকার কারণে।
এআইপি-র মুখ্য মুখপাত্র ইনম উন নবি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের পূর্বতন সরকারগুলিকে (ন্য়াশনাল কনফারেন্স ও পিপল’স ডেমোক্রেটিক পার্টির) তুলোধনা করেন। তিনি বলেন, ‘অকারণে কিছু মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদের দুর্ভোগ ভোগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।’
নবি আরও বলেন, ‘এনসি এবং পিডিপি একেবারে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিরাপত্তা রক্ষার অছিলায় নিরাপরাধ মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেছে। আদালতের এই রায় একটি মাইলফলক তৈরি করল। যা সুবিচারকে আবারও একবার প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবং এটা প্রমাণ করে দিয়েছে, ব্যক্তির পরিচয় তাঁর নিজস্ব আচরণ। তাঁর আত্মীয়রা কে কী করলেন, তা দিয়ে কখনই এর বিচার করা যেতে পারে না।’
তাঁর মতে, ‘এই রায় যে শুধুমাত্র বিচারব্যবস্থার উপর ফের একবার মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনল, তাই নয়। এর আগে এনসি আর পিডিপি সরকার কীভাবে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করার জন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অপব্যবহার করেছে, তাও প্রমাণ করে দিল। আইপি-র তরফে আমার অনুরোধ, এই ধরনের যত মামলা রয়েছে, সেগুলিকে যেন কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই একইভাবে বিচার করা হয়।’
হুরিয়ত চেয়ারম্যান এবং জামিয়া মসজিদের প্রধান ধর্মগুরু মীরওয়েইজ উমর ফারুক বলেন, এত দিন ধরে শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক থাকার জন্য যাঁদের পাসপোর্টের আবেদন খারিজ হয়ে যেত, হাইকোর্টের এই রায় তাঁদের মনে আশা জোগাবে। এত বছর ধরে তাঁদের সঙ্গে অন্য়ায় হয়ে এসেছে বলেও বার্তা দেন দেন ফারুক।
উল্লেখ্য, আমির মালিক নামে ২৯ বছরের এক যুবকের করা মামলার ভিত্তিতে উপরোক্ত পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্যটি করে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট। বিচারপতি এমএ চৌধুরী এডিজিপি সিআইডি-কে নির্দেশ দেন ওই যুবকের পাসপোর্টের আবেদন সংক্রান্ত ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পুনরায় জমা করতে হবে।
(Feed Source: hindustantimes.com)
