
News
oi-Moumita Bhattacharyya
আমরা প্রদীপের উজ্জ্বল আলোকে দেখি কিন্তু প্রদীপের নীচে জমা কালিকে দেখি না। কিছুটা সেরকমই হাল টলিউড ইন্ডাস্ট্রির। সেই ক্ষোভই উঠে এল এক অভিনেতার আকস্মিক সিদ্ধান্তে। টলিউডের বেশ পরিচিত মুখ প্রসূন গায়েন বৃহস্পতিবার সকালে এক বিস্ফোরক ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে তিনি স্বেচ্ছায় বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ছেন। কিন্তু এই আচমকা অবসর নেওয়ার কারণ কী? ফোনে ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার সঙ্গে কথোপকথনে অভিনেতা জানালেন তাঁর মনে জমে থাকা ক্ষোভের কথা।
২০০৮ সালে টলিউডে পা রাখার পর প্রসূন গায়েনকে দেখা যায় চ্যালেঞ্জ, প্রেম আমার, সেদিন দেখা হয়েছিল, খাসি কথা, কানামাছি, জুলফিকার সহ অনেক ছবিতেই। তাঁর অভিনয় যথেষ্ট প্রশংসনীয়। কিন্তু এমন কী হল যাতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন। প্রসূন গায়েন বলেন, ‘আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে আছি। জানি না এর পর আমার কী হবে, কোথায় যাব আমি। আমায় মানুষ কতটা মনে রাখবে। আমি মানসিকভাবে হাঁপিয়ে উঠেছি। ভীষণ ভয়ে আছি।’ টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কিছুটা ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিনেতা জানিয়েছেন যে তাঁদের মতো অভিনেতাদের জন্য বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও জায়গা নেই। এখানে শুধু চলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার কত ফলোয়ার্স তার ওপর ভিত্তি করে। ভালো অভিনয় সে আদৌও জানে কিনা সেটাতে কারোর ভ্রুক্ষেপ নেই। শুধু তাই নয়, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা পায় না ভালো সিনেমা।
প্রসূন গায়েনের ফেসবুক পেজে নজর রাখলেই দেখা যাবে তাঁর নতুন ছবি নিয়ে করা পোস্ট, ভাসান-প্রাপ্তির মতো ভালো ছবি দেখার অনুরোধ দর্শকদের কাছে। অথচ নিজেই আজ সকালে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করে সকলকে হতচকিত করে দেন অভিনেতা। প্রসূন গায়েন বলেন, ‘যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অভিনেতাদের ফিট থাকার উপদেশ দেয় আবার সেই ইন্ডাস্ট্রি শুটিংয়ে সকালের প্রাতঃরাশে কচুরি-আলুর তরকারি খেতে দিচ্ছে। এই ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই আমার মতো সমস্যায় ভুগছেন, কিন্তু কেউ বলতে পারে আবার কেউ বলতে পারেন না। আর এই মানসিক অবসাদে ঘিরে আজকে অনেকেই আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। না, আমার অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমায় মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়নি। কিন্তু আমি আর পারছি না।’ প্রসঙ্গত, প্রসূন গায়েনের কথায় এটা স্পষ্ট যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সোর্স না থাকলে কিছুই করা সম্ভব নয়। নতুন প্রতিভারা এসে শুধু লড়াই করে যাবেন কিন্তু তার নিটফল শূন্য।
মূলতঃ হালিশহরের ছেলে প্রসূন পড়াশোনা করেছেন রবীন্দ্রভারতী থেকে। অভিনয়টা ভালোবেসে করেন এবং মন দিয়ে করেন। অভিনেতা কারোর নাম না নিয়ে বলেন, ‘এমন অনেক দিন গিয়েছে যখন পরিচালক-প্রযোজকরা আমায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে অন্য কাউকে নেওয়া হয়ে গিয়েছে আমার আর প্রয়োজন নেই। এই বিষয়গুলি আমার ভেতরে গভীরভাবে দাগ কেটেছে। আমি শুধু আমার ভবিষ্যৎ নয়, এই ইন্ডাস্ট্রিতে থাকা আমার মতো অন্যান্যদের এবং যাঁরা নতুন আসছে তাঁদের সকলের কথা ভেবেই খুব উদ্বিগ্ন।’
কিছুদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা শুভময় চট্টোপাধ্যায়। খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভুগে মৃত্যু হয় তাঁর। নাট্যজগত তো বটেই এমনকী টেলিপর্দারও ভীষণ জনপ্রিয় মুখ তিনি। একুশের কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শুভময় অভিনীত শর্ট ফিল্ম ‘হরে কৃষ্ণ’ সেরার শিরোপা জিতেছিল। যে ছবির প্রযোজনা করেছেন জিৎ। শুভময় চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে প্রসূন গায়েনকে। তিনি জানিয়েছেন, এত ভালো একজন শিল্পী অথচ মৃত্যুর পর তাঁর আর্টিস্ট ফোরামে জায়গা হল না। অভিনেতার কথায় তিনি তাঁর আগামী দিনের কথা ভেবে সত্যিই চিন্তিত। প্রসূন গাইন বলেন, ‘আপাতত অবসর নিলাম সিনেমা জগৎ থেকে। জানি না এরপর কী করব। তবে বেঁচে থাকার জন্য তো কিছু করতেই হবে। আবার যদি যোগ্য সম্মান পাই ফিরে আসার চেষ্টা করব।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার অভিনেতা তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। যেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় বন্ধুরা, দীর্ঘ কয়েক বছর এই সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রিতে আছি। আমার বিরতি নেওয়ার সময় এসেছে। আমি এই জীবিকা থেকে স্বেচ্ছায় সরে এলাম। এতদিন সবাইকে মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন রকম মানসিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব, যা একজন শিল্পীর জীবনকে শেষ করে দেয়। কিছুটা তার শিকার আমিও। কোনোদিনও কিছু বলি নি। কাউকে কোনো দোষ ও দিতে চাইনা। লড়তে লড়তে হাপিয়ে উঠেছি বন্ধুরা। বাকি জীবনটা দূরে কোথাও…..মানুষ নিজেকে যেদিন থেকে ভগবান ভাবতে শুরু করেছে,সেই দিন থেকেই এত হিংসা,লড়াই। আর সব মানুষের মতো আমারও ধৈর্য্য শেষ। পারলে সবাই একজোট হয়ো। ভালো থেকো সবাই।’ এরপরই টলিপাড়ায় শোরগোল পড়ে যায়।
(Source: oneindia.com)
