রাত দশটা নাগাদ নয়াদিল্লি স্টেশন থেকে প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে একটি ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল৷ তার মধ্যে ১৪ নম্বর স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস৷
পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার আগে নয়াদিল্লি স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় (বাঁদিকে)৷ শিশু নিয়েও ট্রেন থেকে ঝুলছেন যাত্রীরা (ডান দিকে)৷ ছবি- পিটিআই
নয়াদিল্লি: মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান করতে যাওয়ার হুজুগের জেরেই নয়াদিল্লি স্টেশনে ঘটে গেল পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা? প্রাথমিক তদন্তে অন্তত সেরকমই তথ্য উঠে আসছে৷ নয়াদিল্লি স্টেশনের ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়াগরাজগামী ট্রেনে ওঠার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে৷ পদপিষ্ট হওয়ার এই ঘটনায় দশ জন মহিলা এবং তিন জন শিশু সহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও বেশ কিছু যাত্রী৷
নয়াদিল্লি রেল স্টেশনে ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের যে ভিডিওগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ প্রয়াগরাজগামী ট্রেন ধরার জন্য নয়াদিল্লি স্টেশনের ১৪ এবং ১৫ নম্বর স্টেশনে জড়ো হয়েছেন৷ এমন কি, ট্রেনগুলির কামরাও ভিড়ে ঠাসা রয়েছে৷ বিপজ্জনক ভাবে কামরার দরজায় ঝুলছেন মহিলা এবং শিশু কোলে যাত্রীরা৷ এর মধ্যেই ট্রেনে ওঠার জন্য যাত্রীদের হুড়োহুড়িতে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে৷
রাত দশটা নাগাদ নয়াদিল্লি স্টেশন থেকে প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে একটি ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল৷ তার মধ্যে ১৪ নম্বর স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস৷ ওই ট্রেনে ওঠার জন্য ১৪ নম্বর স্টেশনে একসঙ্গে কয়েক হাজার যাত্রী চলে আসেন৷ রেল পুলিশের ডিসিপি কেপিএস মালহোত্রা জানিয়েছেন, ১৪ নম্বর স্টেশনে যখন একদিকে প্রয়াগরাজ গামী ট্রেনে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি চলছে, তখন পাশের ১২ এবং ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মেও স্বতন্ত্র এক্সপ্রেস এবং ভুবনেশ্বরগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ধরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন বহু যাত্রী৷ কারণ ওই দুটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের থেকে দেরিতে চলছিল৷
রেল পুলিশের ওই শীর্ষকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে সাধারণ কামরার প্রায় ১৫০০ টিকিট বিক্রি হয়েছিল৷ অতিরিক্ত এই ভিড়ের কারণে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং এসক্যালেটরের সামনে আচমকাই পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়৷
ভিড় সামাল দিতে আসে রেল পুলিশ এবং দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী৷ কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে৷ প্রবল ভিড়ে যাত্রীদের হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়৷ মৃতদের মধ্যে মহিলা এবং শিশুরাও রয়েছে৷
প্রশ্ন উঠছে, প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে পুণ্যার্থীদের ভিড় যখন গত কয়েক দিন ধরেই বাড়ছে, সেখানে কেন ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করল না রেল? অস্বাভাবিক সংখ্যায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে দেখেও কেন ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত রেল পুলিশ মোতায়েন করা গেল না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল মন্ত্রক৷
(Feed Source: news18.com)