
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে (BGT 2024-25) ভারতের চরম ভরাডুবি হয়েছে। ১০ বছর পর এই ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে। মুম্বইয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) সদর দফতরে, এক বিশেষ বৈঠকে এই হারের ময়নাতদন্ত হয়েছিল। সেখানেই দলের দিশা ঠিক করতে আগামীর রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রজার বিনির (Roger Binny) নেতৃত্বে সেই বৈঠকে ছিলেন বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা (Rajeev Shukla), বিসিসিআই সচিব দেবজিত্ সইকিয়া (Devajit Saikia) ডাকা হয়েছিল দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও অধিনায়ক রোহিত শর্মাকেও (Rohit Sharma)।
রিভিউ সেশনে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে মুড়ে ফেলেছে ক্রিকেটারদের বোর্ড। একেবারে ১০-দফা নির্দেশিকা লাগু হয়ে গিয়েছে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ থেকেই। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৯ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান-দুবাই একসঙ্গে আয়োজন করছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ২০১৭ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। চার বছর অন্তর এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ৮ বছর পর আইসিসি-র পরিচালনায় ফিরছে এটুর্নামেন্ট। যা অনেকে মিনি বিশ্বকাপও বলে থাকেন। ভারত যেহেতু পাকিস্তানে খেলতে যাবে না, সেহেতু আইসিসি নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে দুবাইকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। হাইব্রিড মডেলে হচ্ছে টুর্নামেন্ট। দুবাইয়ে চলে এসেছে টিম ইন্ডিয়া। তবে জানা যাচ্ছে দুবাইয়ে স্ত্রী-সাহচর্যের অনুরোধ করেছিলেন এক সিনিয়র ক্রিকেটার। তবে তাঁর কথা এক কান দিয়ে শুনে, আরেক কান দিয়ে বার করে দিয়েছে বিসিসিআই!
বিসিসিআইয়ের নির্দেশিকায় সাফ লেখা আছে, ‘সকল খেলোয়াড়কে অনুশীলনের নির্ধারিত পুরো সময় মাঠে থাকতে হবে এবং ভেন্যুতে আসা-যাওয়া একসঙ্গে করতে হবে। এই নিয়ম নিশ্চিত করে দায়বদ্ধতা। যা দলের মধ্যে শক্তিশালী ওয়ার্ক এথিক গড়ে তোলে। এই নিয়ম লঙ্ঘনকে বিসিসিআই গুরুতর ভাবেই দেখবে।’ দুবাইয়ে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারের সেই অনুরোধ নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হয়েছে।
বোর্ডের এক সিনিয়র কর্তা এই প্রসঙ্গে এক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছে, ‘এই বিষয়ে আর পিছিয়ে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। খেলোয়াড়রা সচেতন করা হয়েছে যে, বিসিসিআই SOP সম্পর্কে খুবই গুরুতর। আগামী দিনে যদি কিছু পরিবর্তন হয়, তাহলে তা আলাদা কথা, কিন্তু এখনও পর্যন্ত, দুবাই সফরে খেলোয়াড়দের স্ত্রী বা সঙ্গীদের সঙ্গে থাকার সম্ভাবনা কম। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তাঁকে বলা হয়েছে যে, নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতেই হবে। যেহেতু এই সফর এক মাসেরও কম সময়ের জন্য, সেহেতু খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা থাকবে না। তবে যদি ব্যতিক্রম হয়, তাহলে আমার মনে হয় সেই ক্রিকেটারকে সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে হবে। কারণ বিসিসিআই কোনও খরচ বহন করবে না। ইতিমধ্যেই নিয়ম লাগু হয়ে গিয়েছে। কোনও খেলোয়াড় অনুশীলনের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি চাইবার জায়গায় নেই। সমস্ত স্টেট ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। একইভাবে খেলোয়াড়রা কলকাতায় (ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য) এবং নাগপুরে (একই দলের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের জন্য) একত্রিত হওয়ার পরে, দল একসঙ্গে ভ্রমণ করেছে।
আগেই জানা গিয়েছিল যে, বিদেশ সফরে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময়ে কাঁচি চালাবে বিসিসিআই। যদি কোনও টুর্নামেন্ট ৪৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে ক্রিকেটারের পরিবার তাঁর সঙ্গে ১৪ দিনের জন্য থাকতে পারবে। সফরের সময় কম হলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময়ও ৭ দিন কমবে। কোনও ক্রিকেটারের স্ত্রী পুরো টুর্নামেন্টে থাকতে পারবেই না। পরিবারকে শুধু ২ সপ্তাহ থাকার অনুমোদন দেবে বিসিসিআই।সকল খেলোয়াড়কে টিম বাসেই ভ্রমণ করতে হবে। ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের ক্ষেত্রেও রয়েছে ফতোয়া। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ম্যানেজারকে ভিআইপি বক্সে বসাতে পারবেন না। তাঁকে টিম বাসে উঠতে দেওয়া হবে না। তাঁকে টিম হোটেলে নয়, আলাদা হোটেলেই থাকতে হবে। যদি ক্রিকেটারদের লাগেজ ১৫০ কেজির বেশি হয়, তাহলে বিসিসিআই সেই অতিরিক্ত পয়সা দেবে না। তা ক্রিকেটারকেই দিতে হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
