
Purulia News: এককালে যে অযোধ্যা পাহাড় মাও অধ্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত ছিল। অন্ধকার নামতেই যেখানে মানুষের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যেত। সেখানেই ‘নাইট ম্যারাথন’।
পুরুলিয়া: বাংলার বুকে প্রথমবার নাইট ম্যারাথন করে তাক লাগিয়ে দিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। জঙ্গলমহলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এই দিন। এককালে যে অযোধ্যা পাহাড় মাও অধ্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত ছিল। অন্ধকার নামতেই যেখানে মানুষের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যেত। সেখানেই ‘নাইট ম্যারাথন’। পাহাড়, জঙ্গল, রাত আর রাত দখলের ম্যারাথনে সাক্ষী থাকলো বদলে যাওয়া অযোধ্যা পাহাড়।
১৪ কিলোমিটার ম্যারাথনে পা মিলিয়ে ছিলেন স্বয়ং এডিজি (পশ্চিমাঞ্চল) অশোককুমার প্রসাদ, এডিজি (এসটিএফ) বিনীত গোয়েল, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট সুনীল চৌধুরি। জেনারেল ও মহিলা ক্যাটাগরি মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল জঙ্গলমহল সহ ভিন রাজ্য , ভিন জেলা সহ এক হাজারের বেশি প্রতিযোগী। ছিল চোখ ধাঁধানো আতসবাজি। আর এই আতশবাজির আলোতেই যেন আবারও প্রমাণিত হল কতখানি বদল ঘটেছে অযোধ্যার সন্ধ্যা থেকে প্রায় মধ্যরাত।
আক্ষরিক অর্থেই ম্যারাথন সফল হল। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের টিম ওয়ার্ক অসাধ্য সাধন করে দেখাল। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বনদফতর , অযোধ্যা পাহাড়ের পর্যটন সংস্থা থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা। অযোধ্যা পাহাড়ের বুকে রাতের ঝলমলে আলোয় শিল্পীরা গাইলেন দিন বদলের গান।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”মাও অধ্যুষিত অযোধ্যার সাক্ষী ছিলেন তিনি। রক্তপাত, খুনোখুনি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বাতাসে বইত বারুদের গন্ধ। বহু লড়াইয়ের পর আজকের এই অযোধ্যা পাহাড়। আক্ষরিক অর্থে এই ম্যারাথন প্রমাণ করে দিল বদলে যাওয়া অযোধ্যা পাহাড় কতখানি সুরক্ষিত।”
এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের বাসিন্দা বিকাশ প্যাটেল। তিনি বলেন,”সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি এই নাইট ম্যারাথনের কথা জানতে পেরেছিলেন। এর আগেও তিনি অনেক ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু এই প্রথমবার নাইট ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করলেন। তার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে এই ম্যারাথনে।”
নাইট ম্যারাথনে মহিলা বিভাগের প্রথম স্থান অধিকার করেন উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা শম্পা গায়েন। তিনি বলেন,”ইতিপূর্বেও তিনি বিভিন্ন জায়গাতে ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু এই প্রথমবার নাইট ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করলেন। দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। “
রকমারি আলোর সাজে সেজে উঠেছিল সুন্দরী অযোধ্যা। ক্যাম্প ফায়ারের আলোয় যেন নৈসর্গীয় রূপ ফুটে উঠেছিল। তাল মিলিয়ে ছিল ধামসা-মাদলের সুর। পুরুলিয়ার লোকশিল্প ছৌ, নাটুয়া, পাতা নাচ, ঝুমুর আর বাউলের আসরে প্রায় ৪০০ জন লোকশিল্পী মাতিয়ে দিয়েছিল। জঙ্গলমহল, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের গায়ক গায়িকাদের সঙ্গীত যেন আরও আকর্ষিত করেছিল সকলকে। এমন জমকালো অযোধ্যার রূপ যেন আগে দেখেনি জঙ্গলমহল। বদলে যাওয়া অযোধ্যা দেখল গোটা বাংলা।
শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি
