
রাজীব চক্রবর্তী: ‘এক দেশ এক নির্বাচন’। স্রেফ অকাল নির্বাচনই নয়, ঘুরপথে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির আশঙ্কাও! এবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠল যৌথ কমিটির বৈঠক। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি উদয় ইউ ললিতের পরামর্শ, ‘ধাপে ধাপে চালু হোক এই আইন’। পরবর্তী বৈঠক বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দফার শুরুর দিকে। অর্থাৎ ১০ কিংবা ১১ মার্চ।
কেন্দ্রের পক্ষে বেশি ভোট পড়লেও লোকসভা পাস করানো যায়নি ‘এক দেশ এক নির্বাচন’। কারণ, কারণ, সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করতে গেলে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্য়াগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এখন সংসদের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ এনডিএ-ই। কিন্তু রাজ্যসভা, এমনকী লোকসভাতেও তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে বিলটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে।
এদিন যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উদয় ইউ ললিত-সহ আইনি বিশেষজ্ঞরা। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি অবশ্য বিলের পক্ষেই সওয়াল করেন।
এদিকে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ৫ বছরের আগে বিধানসভা ভেঙে গেলে বাকি মেয়াদের জন্য নির্বাচন হবে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় ও আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের প্রশ্ন, ‘বারবার নির্বাচন হলে এক নির্বাচনের যুক্তি কোথায়’? আবার সরকারের মেয়াদ এক বছরের কম থাকলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে! বিরোধীদের অভিযোগ, ‘রাজ্যগুলিতে রাষ্ট্রপতি শাসন চাপিয়ে দিতে চাইছে কেন্দ্র’।
ঘটনাটি ঠিক কী? এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয় বিভিন্ন সময়ে। আবার কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়াদ শেষ হলে, লোকসভা ভোট! এই ব্যবস্থাটিকে এবার বদলে ফেলতে চাইছে মোদী সরকার। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। এরপরই গত বছরের ডিসেম্বরে লোকসভায়’এক দেশ, এক নির্বাচন’ কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল। যে বিলের তীব্র বিরোধিতা করে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিরোধীরা। ভোটাভুটি হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
