
মুম্বই-এর নালা সোপারায় ১৩ বছর বয়সি এক কিশোর তার ৬ বছরের খুড়তুতো বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এই ঘটনার পেছনের কারণ জানার পর পুরো এলাকা হতবাক হয়ে গেছে। জানা গিয়েছে, কিশোরটির ধারণা ছিল যে তার পরিবারের সবাই ছোট বোনকে বেশি ভালোবাসে। এই ঈর্ষা এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে সে নির্মমভাবে খুনের পরিকল্পনা করে।
নালা সোপারার পূর্বে শ্রীরাম নগর এলাকায় বাস করত ৬ বছর বয়সি মেয়ে শিদ্রা খাতুন। শনিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে সে সন্ধ্যায় ঘরের বাইরে খেলতে গিয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রথমে পরিবারের লোকেরা আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে, কিন্তু তাকে কোথাও না পেয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাচ্চাটিকে খুঁজে না পাওয়ায় তার পরিবার পুলিশকে খবর দেয় এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, শিদ্রাকে তার ১৩ বছর বয়সি খুড়তুতো ভাই একটি বাথরুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যখন পরিবারের সদস্যরা ওই ছেলেটির কাছে বিষয়টি জানতে চায়, তখন সে মিথ্যা বলে যে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শিদ্রাকে হত্যা করেছে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে আতঙ্কিত পরিবার পেলহার থানায় অভিযোগ জানায়। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং একটি পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা একটি আধ পোড়া শরীর খুঁজে পায়। এরপরই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় ওই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে স্বীকার করে নেয় যে, খুন সে-ই করেছে।
কোন কারণে এমন নৃশংস হত্যা? পুলিশি তদন্তে কিশোর স্বীকার করেছে যে পরিবারের ভালোবাসা শিদ্রার দিকে বেশি ছিল, যা সে সহ্য করতে পারছিল না। এই ঈর্ষার কারণেই সে শনিবার শিদ্রাকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রথমে গলা চেপে ধরে হত্যা করে। এরপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে বড় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়।
এখানেই শেষ নয়, শিশুটির লাশ লুকানোর জন্য ওই কিশোর তার পোশাক ও অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়িয়ে দেয়। তদন্তকারীদের মতে, খুনের পর কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং বাড়ি ফিরে এসে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো পরিবার ও এলাকার মানুষ গভীর শোকে ডুবে গিয়েছে। শিশুটির মা-বাবা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, তাদেরই এক আত্মীয় এমন ভয়ংকর কাজ করতে পারে। পুলিশ কিশোরের মানসিক অবস্থা যাচাই করতে তাকে বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের আওতায় এনেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
