
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হায়াত তাহরির আল শাম ও জইশ আল ইজ্জার হামলায় গত ডিসেম্বরে পড়ে গিয়েছিল সিরিয়ার বাসার আল আসাদ সরকার। তারপর এই তিন মাসেই বদলে যাচ্ছে খেলা! গত ২ দিনে সিরিয়ায় বাসার আল আসাদ অনুগামী ও অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের বাহিনীর মধ্য়ে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে এক হাজার মানুষের। এদের মধ্যে প্রায় ৭৫০ জন সাধারণ নাগরিক। ১৭৫ জন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী ও ১৪৮ আসাদ অনুগত বিদ্রোহী। গত ১৪ বছরে যতদিন ধরে সিরিয়ায় সংঘর্ষ চলছে তার মধ্যে এটাই অন্যতম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
গত বৃহস্পতিবার থেকে সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, দেশে বাসার আল আসাদ অনুগামীরা ফের মাথা তুলেছে। গত শুক্রবার সরকার অনুগামী সুন্নি যোদ্ধারা আসাদ গোষ্ঠীর আলাউইটদের উপরে হামলা চালায়। ওই হামলায় কিছুটা কোণঠাসা আল শাম বাহিনী। সরকারি বাহিনী আলাউইটদের গ্রামে ঢুকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালায়। তাদের বাড়িতে লুটতরাজ চালানো হয়, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচতে অনেকেই পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি এমনই দাড়িয়েছে যে রাস্তায় সারি সারি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বানিয়া প্রদেশের বাসিন্দা আলি সেহা সংবাদমাধ্যমে বলেন, আমার অন্তত ২০ জন প্রতিবেশীকে ওরা গুলি করে মেরেছে। তাদের ঘরে, ব্যবসার জায়গায় হামলা চালানো হয়। আসাদ সরকার যা করেছে তার শাস্তি এটা, এমনটাই মত হামলাকারীদের। ওরা গ্রামে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছিল, বাড়িতে আগুন দিচ্ছিল, অবাধে লুটপাঠ চালাচ্ছিল।
সিরিয়ায় ফের হিংসা শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। এনিয়ে সিরিয়ায় রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধি রামি আব্দুররহমান একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বলা হয়েছে সিরিয়া কনফিল্কট শুরু হওয়ার পর থেকে এটা একটি অন্যতম বড় হামলা।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে সংঘর্ষ। তার জেরে বিভিন্ন জায়গায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবারহ ব্যহত হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও জল ও বিদ্যুত্ও মিলছে না। রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে অস্ত্রধারীরা। পথচলতি মানুষজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে মেরে ফেলা হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
