হোটেলের বাইরে উর্দি পরে দাঁড়িয়েছিলেন ‘DSP’, স্থানীয় পুলিশ পৌঁছে প্রশ্ন করতেই জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল সমস্ত সত্যি… যা শুনে তাজ্জব সকলেই

হোটেলের বাইরে উর্দি পরে দাঁড়িয়েছিলেন ‘DSP’, স্থানীয় পুলিশ পৌঁছে প্রশ্ন করতেই জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল সমস্ত সত্যি… যা শুনে তাজ্জব সকলেই

Telangana Latest News: পুলিশকর্মীরা প্রশ্ন করেন, স্যার আপনার পোস্টিং কোথায়। এটা শুনে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন শুরু করলেন ডিএসপি সাহেবও। কিন্তু তাঁর সেই জারিজুরি খুব অল্প সময়ের জন্যই স্থায়ী হয়েছিল। আসলে ওই ব্যক্তি ডিএসপি সেজেছিলেন ৷ তিনি কোনও ডিএসপি ছিলেন না।

হোটেলের বাইরে উর্দি পরে দাঁড়িয়েছিলেন ‘DSP’, স্থানীয় পুলিশ পৌঁছে প্রশ্ন করতেই জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল সমস্ত সত্যি (Representational Image)

নয়াদিল্লি: রীতিমতো পোশাক পরে তেলঙ্গানার সূর্যপেতের একটি হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন ডিএসপি সাহেব। ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ বাহিনী পৌঁছে গেল ঘটনাস্থলে। যদিও থানার পুলিশ অফিসাররা সকলেই জুনিয়র লেভেলের ছিলেন। এদিকে ডিএসপি সাহেবও কম যান না। নিজের সম্পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে শুরু করলেন। পুলিশকর্মীরা প্রশ্ন করেন, স্যার আপনার পোস্টিং কোথায়। এটা শুনে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন শুরু করলেন ডিএসপি সাহেবও। কিন্তু তাঁর সেই জারিজুরি খুব অল্প সময়ের জন্যই স্থায়ী হয়েছিল। আসলে ওই ব্যক্তি ডিএসপি সেজেছিলেন ৷ তিনি কোনও ডিএসপি ছিলেন না। ভুয়ো পুলিশকর্মী সাজার অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকী এ-ও অভিযোগ যে, ভুয়ো পুলিশকর্মী সেজে সে এক মহিলার কাছ থেকে ৩৬ লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছে।

ওই প্রতারকের নাম বথুলা শ্রীনিবাস রাও। বছর পঁয়ত্রিশের ওই যুবকের কাছ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা নগদ, একটি গাড়ি এবং একটি পুলিশের পোশাক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত ১০ মার্চ সন্দেহজনক ভাবে তাঁকে ওই হোটেলের আশপাশে ঘুরতে দেখা যায়। আর ডিএসপি-র ইউনিফর্ম দেখে ভয় পেয়ে যান হোটেলের কর্মীরা। তাই প্রথমে তাঁরা চুপচাপই ছিলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে এমন দৃশ্য দেখে বাধ্য হয়েই স্থানীয় থানাকে জানান তাঁরা। আর খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং ওই ভুয়ো ডিএসপি-কে গ্রেফতার করে। এদিকে পুলিশ আসতে দেখে ভুয়ো ডিএসপি প্রথমে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেই স্বমূর্তি ধারণ করে বারবার নিজেকে ডিএসপি বলে দাবি করতে থাকে সে।

আসল পুলিশকর্মীরা প্রথমে খুব নম্র ভাবে ডিএসপি-কে প্রশ্ন করেছিল যে, তাঁর পোস্টিং কোথায়। কিন্তু ওই ব্যক্তি নিজের দাবির সমর্থনে প্রমাণ হিসেবে কোনও আইডি কার্ড দেখাতে পারেননি। ফলে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায় যে, সে আদতে কোনও ডিএসপি নয়।

পুলিশ জানিয়েছে যে, মাট্টিপল্লি গ্রামের শ্রীনিবাস রা সাধারণত বেকার যুবকদের ফাঁদে ফেলত। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের থেকে টাকা নিত। এদিকে অভিযোগ যে, নিজের সাব-ইনস্পেক্টরের চাকরির জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোডাড়ের এক মহিলার থেকে ৩৬ লক্ষ টাকা নিয়েছিল ওই প্রতারক। পুলিশের বক্তব্য, মহিলার থেকে টাকা নিয়ে নিজের বিলাসব্যসনের জন্য ১৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল ওই ব্যক্তি। বাকি টাকা তার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সূর্যপেতের জেলা এসপি কে নরসিমহা টাইমস অফ ইন্ডিয়ার কাছে বলেন যে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীনিবাস জামিনে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিল। সেই সময়ও একই কায়দায় অন্যদের প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।