শুধু গাড়ি বা বাইক নয়, নৌকো চালাতেও লাইসেন্স লাগে, জলে ভ্রমণের নিয়ম জানেন?

শুধু গাড়ি বা বাইক নয়, নৌকো চালাতেও লাইসেন্স লাগে, জলে ভ্রমণের নিয়ম জানেন?

Licence- নদী ও জলাশয়ের আশপাশের গ্রামগুলোতে এখনও নৌকোই পরিবহণের প্রধান মাধ্যম। অনেক জায়গায় সাধারণ ডিঙি নৌকা থাকলেও এখন মোটরচালিত নৌকা বা বোটের চল হয়েছে।

কলকাতা: মাকড়শার জালের মতো ছড়িয়ে থাকা হাইওয়ে, ঝাঁ চকচকে রাস্তা, আর দ্রুত গতিতে ছুটে চলা গাড়ি। শহরাঞ্চলে এই দৃশ্য খুবই পরিচিত। তবে গ্রামাঞ্চলের ছবিটা এখনও অনেকটাই আলাদা। অনেক জায়গায় কাঁচা পথ তো দূরের কথা, পিচঢালা সড়কও নেই। ফলে যোগাযোগের অন্যতম ভরসা নৌকো।

নদী ও জলাশয়ের আশপাশের গ্রামগুলোতে এখনও নৌকোই পরিবহণের প্রধান মাধ্যম। অনেক জায়গায় সাধারণ ডিঙি নৌকা থাকলেও এখন মোটরচালিত নৌকা বা বোটের চল হয়েছে। এতে চেপেই যাত্রীরা পারাপার করেন। শহরাঞ্চলে জলপথ পরিবহনের জন্য লঞ্চও চালু রয়েছে, যা সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অনেকেই জানেন না, মোটরবোট চালানোর জন্যও গাড়ি বা বাইকের মতো লাইসেন্স দরকার হয়। নাহলে গুণতে হবে জরিমানা।

আবেদনের পদ্ধতি: মোটরবোটের লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (IWT) বিভাগ বা পোর্ট অথরিটির অফিসে যেতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স হাতে পাওয়া যায়।

কী কী নথিপত্র লাগে: মোটরচালিত নৌকা, যেমন ফেরি সার্ভিস, মাছ ধরার বোট বা পর্যটন নৌকা লাইসেন্স ছাড়া চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য চালককে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের প্রধান দুটি শর্ত হল – আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং নৌকো চালানো জানতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র – আধার কার্ড বা পরিচয়পত্র, বার্থ সার্টিফিকেট, শারীরিক ফিটনেস সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং সরকার অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট। এই সব নথিপত্র থাকলে যে কেউ মোটরবোটের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন।

লাইসেন্স না থাকলে কী হবে: গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নৌকোচালকদের তেমন চেকিং হয় না, তবে বড় শহর এবং বন্দর এলাকায় লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। চেকিংয়ের সময় লাইসেন্স দেখাতে না পারলে গাড়ি বা বাইকের মতোই জরিমানা দিতে হয়। জরিমানার পরিমাণ ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যদি কেউ মোটরবোট চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে চান, তাহলে অবশ্যই লাইসেন্স নেওয়া জরুরি! সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে খুব সহজেই মোটরবোট চালানোর অনুমতি পাওয়া যায়, যা চালকদের জন্য যেমন নিরাপদ, তেমনি যাত্রীদের জন্যও স্বস্তিদায়ক।