
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জুয়ার প্রতি আসক্তি মানুষকে কোনদিকে নিয়ে যেতে পারে, গুজরাতের একটি স্কুলের ছাত্রদের না দেখলে বোঝা দুষ্কর। ক্লাস ফাইভ, সিক্স, সেভেনের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা জুয়ার নেশায় মাত্র ১০ টাকার লোভে নিজেদের হাত কাটল। এমনই আশ্চর্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে গুজরাতের আমদাবাদের আমরেলি জেলার মুঞ্জিয়াসারের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এক ছাত্র, সহপাঠীদের হাত কেটে ফেলার বিনিময়ে ১০ টাকা পুরস্কারের লোভ দেখিয়েছিল। তারা সকলেই জুয়ার নেশায় বুঁদ। তাই ৪০ জনেরও বেশি শিশু পেন্সিল শার্পনারের ব্লেড দিয়ে নিজেদের হাত কেটে চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করে। বাগাসারার সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্র, ভিডিয়ো গেমে এই মারণ খেলা প্রথম দেখে। সে তার সহপাঠীদের ১০ টাকার বিনিময়ে হাতে ব্লেড দিয়ে কাটার জন্য চ্যালেঞ্জ দেয়। টাকার লোভে, দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই খেলা। একটি ছাত্র ব্লেড বের করে নিজের হাতে আঘাত করতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গেই পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রও যোগ দেয় এই খেলায়। ৩০০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়ে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাদের মধ্যে অধিকাংশই আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দা।
প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী বারবার নিজেদের হাত কেটেছে। প্রত্যেকবার হাত কাটার জন্য ১০ টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। স্কুলের শিক্ষকরা আট দিন ধরে ঘটনাটি গোপন রেখে অবশেষে তা প্রকাশ্যে আনে। যার ফলে পুলিশ এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। অভিভাবকদের সতর্ক করার পরিবর্তে, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের চুপ করিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীরা মা বাবাদের জানায়, খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। পরিবারের লোকজন মেনেও নেন সেই কথা। একজন অভিভাবক ব্যাপারটির সত্যতা জানতে পারেন। তিনি প্রশাসনের মুখোমুখি হন এবং বিষয়টি সকলের নজরে আনেন।
চাপের মুখে পড়ে মোটা মুঞ্জিয়াসার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হর্ষাবেন মাকওয়ানা অভিভাবকদের সভা ডেকেছিলেন। তবে, জবাবদিহি করার পরিবর্তে, তিনি ছাত্রদের কাছ থেকে দোষ স্বীকার করিয়ে নেন এবং এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা একটি লিখিত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
মোটা মুঞ্জিয়াসার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, এবং তাদের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ইচ্ছাকৃতভাবে ব্লেড দিয়ে তাদের হাত কেটেছে,- এএসপি জয়বীর গাধভি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যাপারটি পর্যালোচনা করব এবং সমস্ত স্কুলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাব। অভিভাবকদের অবশ্যই বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি দূর করতে হবে — এটি শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি করছে, আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন- ‘আমরা তাদের কাউন্সেলিং করব, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সাথে কথা বলব এবং এর কারণ কী তা খুঁজে বের করব। স্কুল বিষয়টি মোটেই চাপা দেয়নি – শিক্ষকরা অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে এই ঘটনা, শিশু কিশোর মনে ভিডিও গেমের বিপজ্জনক প্রভাবেরই ফল,তা বোঝাই যাচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
