ভূমিকম্পে দুলছে চারিদিক, হাসপাতাল থেকে বের করা হল রোগীকে, রাস্তায় সন্তান প্রসব মহিলার

ভূমিকম্পে দুলছে চারিদিক, হাসপাতাল থেকে বের করা হল রোগীকে, রাস্তায় সন্তান প্রসব মহিলার

ব্যাঙ্কক: প্রসব যন্ত্রণায় কাতরানো রোগীকে অপারেশন টেবিলে তোলা হয়ে গিয়েছিল। শুরু হয়ে গিয়েছিল অস্ত্রোপচারও। সেই সময়ই আচমকা বিপত্তি ঘটে। ভূমিকম্পে দুলে ওঠে হাসপাতাল। সেই অবস্থায় রোগীকে টেনে বাইরে বের করা হয়। এর পর সময় নষ্ট না করে রাস্তার উপরই রোগীর অস্ত্রোপচার শুরু হয়। চারিদিক থেকে রোগীকে ঘিরে ধরেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেই অবস্থাতেই তাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককের রাস্তায় সন্তানের জন্ম দিলেন এক মহিলা। (Bangkok Earthquake)

শুক্রবার পর পর ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মায়ানমার। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল যথাক্রমে ৭.৭ ও ৬.৪। কম্পনে দুলে ওঠে তাইল্যান্ড-সহ ব্যাঙ্ককের বিস্তীর্ণ এলাকাও। সেখানকার পুলিশ জেনারেল হাসপাতালে সেই সময় প্রসব যন্ত্রণায় কাতরানো এক রোগীকে অপারেশন টেবিলে তোলা হয়েছিল। আচমকা চারিদিক দুলে ওঠায়, হাসপাতালের অন্য রোগীদের সঙ্গে ওই মহিলাকেও রাস্তায় বের করে আনা হয়। (Bangkok Baby Delivery on Street)

রোগীর অবস্থা দেখে রাস্তাতেই তাঁর অস্ত্রোপচার শুরু হয়। চারিদিক থেকে রোগীকে ঘিরে ধরেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেখানে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। হাসপাতালের মুখপাত্র সিরিকুল সৃসাঙ্গা এই সুখবহর দিয়েছেন। রাস্তায় অস্ত্রোপচারের ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। পাশাপাশি, রাস্তায় সারি দিয়ে রাখা থাকতে দেখা গিয়েছে হাসপাতালের শয্যা, যার প্রত্যেকটিতেই রোগী শুয়েছিলেন। ভূমিকম্পের জেরে তড়িঘড়ি রোগীদের হাসপাতালের বাইরে বের করে আনা হয় বলে জানা গিয়েছে। এবিপি আনন্দ ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রোপচার চলাকালীন মাঝপথে বিপত্তি ঘটে। সেই অবস্থায় বাইরে বেরিয়ে আসতে হয়। কিন্তু তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচার না করলে মারাত্মক বিপদ ঘটে যেতে পারত। তাই খোলা আকাশের নীচে, রাস্তাতেই অস্ত্রোপচারে হাত লাগান চিকিৎসকরা। সন্তান প্রসব থেকে সেলাই, সবকিছু ভালভাবে মিটে যায়। ওই মহিলার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। শিশুটিও সুস্থ আছে। হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ করছেন।

ভূমিকম্প হলে কী করণীয়, আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা ছিল না হাসপাতালের। বিপদ বুঝে স্বাস্থ্যকর্মীরাই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেন। রোগীদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাঁদের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন সকলেই। এখনও পর্যন্ত যা খবর, সেই অনুযায়ী, ভূমিকম্পের জেরে তাইল্যান্ডে কমপক্ষে ১০ জন মারা গিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও প্রায় শতাধিক মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে সেখানে।

(Feed Source: abplive.com)