Bangladesh Textile Industry: বদলের বাংলাদেশে সুতোসংকট? স্থলবন্দর দিয়ে সুতো আমদানি বন্ধে জরুরি নির্দেশ কেন?

Bangladesh Textile Industry: বদলের বাংলাদেশে সুতোসংকট? স্থলবন্দর দিয়ে সুতো আমদানি বন্ধে জরুরি নির্দেশ কেন?

সেলিম রেজা, ঢাকা: বদলের বাংলাদেশের সুতোশিল্পের সুরক্ষায় স্থলবন্দর দিয়ে সুতো আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাকসুদা খন্দকারের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রদত্ত তথ্য, অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানে সাব্যস্ত হয়েছে যে, বাংলাদেশে সব ধরনের সুতো আমদানিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘোষিত মূল্য অপেক্ষা স্থলবন্দর থেকে সুতো আমদানিতে উল্লেখযোগ্য হারে অবমূল্যায়ন করা হয়।
বাংলাদেশের সুতো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলি এই অবমূল্যায়িত মূল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না। চিন, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশে উৎপাদিত সুতোর গড় মূল্য প্রায় সমান। অথচ স্থলবন্দর ব্যবহার করে আমদানি করা সুতোর মূল্য অনেক কম।

ভারতের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত সুতো কলকাতায় গুদামজাত করে দ্রুত শিপমেন্ট করার কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কম দামে প্রবেশের ফলে বাংলাদেশি সুতোর পরিবর্তে স্থলবন্দর দিয়ে আসা আমদানি করা সুতো ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প খাত অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের সব স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতো আমদানি বন্ধ করে নোটিস জারি অথবা বিদ্যমান এসআরওতে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংশোধনী জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে এক চিঠিতে স্থলবন্দর দিয়ে সুতো আমদানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানায় সুতোকল ও বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের সই করা ওই চিঠি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকেও (এনবিআর) দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রাক্-বাজেট আলোচনায় সুতো আমদানিতে বেশি হারে শুল্ক-কর বসানো এবং অবৈধভাবে সুতো আমদানি বন্ধের সুপারিশ করে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জি ২৪ ঘণ্টার বাংলাদেশ প্রতিনিধিকে টেলিফোনে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ডলার-সংকট, অস্বাভাবিক সুদহার ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের শর্তাবলি পূরণের অজুহাতে রফতানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনার অস্বাভাবিক হ্রাস এবং টাকার অবমূল্যায়ন-সহ নানা কারণে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাত সমস্যায় পড়েছে। আর ভারত থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ডাম্পিং মূল্যে সুতো আমদানি টেক্সটাইল মিলগুলিকে নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। এনবিআরে দেওয়া চিঠিতে বিটিএমএ সভাপতি উল্লেখ করেন, বিগত সরকার নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থলবন্দর দিয়ে সুতো আমদানির অনুমতি দেয়। কিন্তু এসব স্থলবন্দরে সুতোর মান যাচাই করে শুল্কায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা কারিগরি সক্ষমতা নেই। শুধু আংশিক আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট শিল্পের পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের সুতোকলগুলি।

(Feed Source: zeenews.com)