ব্রাত্যর কথায়, ” কারা কী করছেন, নিশ্চয়ই আদালত খেয়াল রাখবে। শিক্ষকরা ক্লাসে গেলে, তাঁদেরই সুবিধা”
কলকাতা: চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের স্কুলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, যোগ্যদের চাকরি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। চাকরিহারাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ”আপনারা কি এখনও বরখাস্তের নোটিস পেয়েছেন? চাকরি করুন না। স্বেচ্ছায় সকলেই কাজ করতে পারেন।” সোমবার দুপুরে নেতাজি ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে চাকরিহারাদের কেউ কেউ আশ্বস্ত হয়েছেন, কেউ ধন্দে রয়েছেন, অনেকেই আন্দোলন-প্রতিবাদ-মিছিলে পথে নেমেছেন।
বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় ডিআই অফিসগুলিতে চাকরিহারা স্কুল শিক্ষকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির তৈরি হয়৷ কসবায় ডিআই অফিসের গেট ভেঙে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা৷ পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি৷ পাল্টা শিক্ষকদের উপরে লাঠিচার্জ করে পুলিশ৷ এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী শিক্ষক এবং পুলিশকর্মীও আহত হন।
এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে আগামিদিনে কী হতে চলেছে? নিউজ18 নেটওয়ার্কের এডিটর ইস্ট বিশ্ব মজুমদারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু৷ আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ” আন্দোলন নয়, কাজে ফিরুন!” ব্রাত্যর কথায়, ” কারা কী করছেন, নিশ্চয়ই আদালত খেয়াল রাখবে। শিক্ষকরা ক্লাসে গেলে, তাঁদেরই সুবিধা। আলোচনা এবং আন্দোলন দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।”
পরপর দু’দিন পথে চাকরিহারারা। বৃহস্পতি-শুক্রে কলকাতায় মিছিল চাকরিহারাদের। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশনে জমায়েত করেন চাকরিহারারা। শিয়ালদহ থেকে মিছিল রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত। শুক্রবার সল্টলেকের এসএসসি ভবনে অভিযান চাকরিহারাদের। শুক্রবার চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ব্রাত্য বসু। শুক্রবার দুপুরে বিকাশ ভবনে বৈঠক হবে, বৈঠকে থাকবেন শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরাও। ব্রাত্য বসুর মতে, ” ওরা (আন্দোলনরত শিক্ষক) শুক্রবার পর্যন্ত দেখে নিতে পারতেন। আমরা তো আলোচনা করতে চাইছি। মুখ্যমন্ত্রী তো আলোচনা করতে ডেকেছেন, আলোচনা করেছেন। আমরা কোনও দেওয়াল রাখতে চাই না।”
বেতন নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বলেছেন স্বেচ্ছাশ্রমের কথা। এই বিষয়ে ব্রাত্য বলেন, “মাইনে ১ তারিখ হয়ে গিয়েছে। রায় বেরিয়েছে ৪ তারিখ। মাইনে সবাই পায় নিজের যোগ্যতা। এর মধ্যে আমরা রিভিউ পিটিশনে যাচ্ছি। তাই মাইনে না দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন?” একইসঙ্গে তাঁর আশ্বাস, ”চাকরিহারা শিক্ষকদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমি আমার দায়িত্ব একশো শতাংশ পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এই আইনি লড়াইয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আমরা রয়েছি।”
গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার ফলে ২৫,৭৫২ জনের চাকরি বাতিল হয়ে যায়। এই সংক্রান্ত মামলায় এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেই রায় অনেকাংশেই বহাল রেখেছে দেশের শীর্ষ আদালত। যোগ্য-অযোগ্য বাছাই অসম্ভব। হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-র ২০১৬ সালের গোটা নিয়োগ প্যানেলই বাতিল হয়েছে।
(Feed Source: news18.com)