প্রায় ২৫ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে চাকরি করে আসছিলেন ইনস্পেক্টর, আচমকাই তাঁর বিরুদ্ধে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! সমস্তটা জেনে কড়া পদক্ষেপ কালেক্টরের

প্রায় ২৫ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে চাকরি করে আসছিলেন ইনস্পেক্টর, আচমকাই তাঁর বিরুদ্ধে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! সমস্তটা জেনে কড়া পদক্ষেপ কালেক্টরের

জবলপুর: দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে সংস্কারধনের ইনস্পেক্টরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এসআই অমিতাভ। বর্তমানে তাঁর সেই চাকরিই বিপদের মুখে পড়েছে। কারণ তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। এমনকী, নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও।

কিন্তু ঠিক কী ঘটেছে। আসলে এসডিএম জানতে পেরেছেন যে, ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট দেখিয়েই এই চাকরিটা পেয়েছিলেন এসআই অমিতাভ। তদন্তে জানা গিয়েছে যে, তাঁর পরিবারের কেউই উপজাতিগত ট্র্যাডিশন তো মানেনই না, সেই সঙ্গে তাঁরা উপজাতিগত নামও ব্যবহার করেন না। তাঁরা মূলত খ্রিস্টান ট্র্যাডিশন মেনে চলেন। আর ভুয়ো ভাবে সার্টিফিকেট তৈরি করিয়েই বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত।

আর অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম অমিতাভ থিওফিলিস। তিনি জব্বলপুরের নেপিয়ার টাউনের বাসিন্দা। অভিযোগ, জাল কাস্ট সার্টিফিকেট দাখিল করে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মধ্যপ্রদেশ পুলিশে কর্মরত অমিতাভ। আর এটাই এসডিএম-এর রিপোর্ট থেকে প্রকাশ্যে এসেছে। ২০০০ সালে সাব-ইনস্পেক্টর পদে যোগদান করেছিলেন অমিতাভ। তিনি খ্রিস্টান। অথচ গৌড় সমাজের কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্র তৈরি করিয়ে তিনি সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন।

অমিতাভ প্রতাপ সিং ভুয়ো নাম:

এসডিএম রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকারের কাছে এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন কালেক্টর। অমিতাভ থিওফিলিস আসলে কাজ করতেন অমিতাভ প্রতাপ সিং নামের আড়ালে। বর্তমানে বুরহানপুর জেলার পুলিশ লাইনে তাঁর পোস্টিং। ১৯৯৮-৯৯ সাল নাগাদ একটি ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট বানিয়েছিলেন ওই এসআই। এরপর সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে পুলিশ বিভাগে নিযুক্ত হন। অথচ এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে, পুলিশের মতো দফতরে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কাজ করা সত্ত্বেও কেউ এত দিন তাঁকে সন্দেহ করলেন না।

কালেক্টরের রিপোর্টের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ করা হবে:

আপাতত মনে করা হচ্ছে যে, কালেক্টর দীপক কুমার সাক্সেনার রিপোর্টের ভিত্তিতে অমিতাভ থিওফিলিসের বিরুদ্ধে শীঘ্রই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে স্বরাষ্ট্র দফতর। আধিকারিকদের বক্তব্য, এসআই যখন তদন্ত করেন, তখন বেরিয়ে আসে যে, অমিতাভ পুরোপুরি ভাবে খ্রিস্ট ধর্ম অনুসরণ করেন। তাঁর বাড়ির কোনও সদস্য এবং তাঁর পরিবার ট্রাইবাল বা উপজাতিগত নাম ব্যবহার করেন না। এমনকী ট্রাইবাল ট্র্যাডিশনও মেনে চলেন না। শুধুমাত্র চাকরির জন্যই তিনি ভুয়ো ট্রাইবাল কাস্ট সার্টিফিকেট বানিয়েছিলেন।