Kashmir Terrorist Attack: প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়ে রাতারাতি উদ্বাস্তু হতে হয়েছিল কাশ্মীরি পণ্ডিতদের। সেই তালিকায় ছিল ভরতেরও পরিবার। ফলত পহেলগাঁওয়ের নৃশংসতা আরও একবার অভিনেতার রক্তাক্ত করেছে অভিনেতার মন।
কাশ্মীর তাঁর মাতৃভূমি। সেখানকার দিগন্তবিস্তৃত আপেল ক্ষেত, স্ট্রবেরি বাগানের মিষ্টি সুবাসের সঙ্গে আজও একাত্ম অভিনেতা ভরত কলের শৈশব। সময়ের ঘষা লাগলেও স্মৃতি সবই অমলিন। ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে ভূ-স্বর্গে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ার সঙ্গেই পণ্ডিতদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়ে রাতারাতি উদ্বাস্তু হতে হয় তাঁদের। সেই তালিকায় ছিল ভরতেরও পরিবার। ফলত পহেলগাঁওয়ের নৃশংসতা আরও একবার অভিনেতার রক্তাক্ত করেছে অভিনেতার মন। নিউজ18 বাংলাকে ভরত বলেন, “বাংলা তথা দেশের অন্য রাজ্যের মানুষেরা আজ এই ভয়াবহতা দেখল। অতীতের কথা আজ মনে পড়ে যাচ্ছে। টার্গেট কিলিং হয়েছে ওখানে। আজ থেকে মাত্র দু’তিন বছর আগে রেভিনিউ বিভাগে চাকরি করা রাহুল ভাটকেও দুষ্কৃতীরা এভাবেই মেরে ফেলেছিল। একদম নিশানা বাছাই করে ওখানে মানুষ মারা চলছে।”
ভরতের বর্তমান ঠিকানা পাকাপাকিভাবে কলকাতা হলেও তাঁর শিকড় কাশ্মীরের মাটিতে। উদ্বাস্তু হওয়ার ইতিহাস আজও তাড়া করে অভিনয় জগতের প্রথিতযশা শিল্পীকে। পহেলগাঁওয়ের বিমর্ষ ছবি ভাবিয়ে তোলে তাঁকে। প্রশ্ন তুলেছেন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভৃত-ভবিষ্যৎ নিয়েও। ভরতের কথায়, “৩৭০ ধারা বাতিলের পর ক’টা হিন্দু পরিবার কাশ্মীরে ফিরে গিয়ে বসবাস করতে পেরেছে? আমার অন্তত জানা নেই। ওটি একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। সন্ত্রাসীদের ছকের খবর কেউ পেলেন না? আমি মনে করি সবার আগে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর পদত্যাগ করা উচিত।”
এখানেই থামলেন না ভরত। “আর কেন্দ্রে থাকা কোনও রাজনৈতিক দলই আজ পর্যন্ত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কথা ভাবেনি। কারণ আমরা ভোট ব্যাঙ্ক নই। তাই আমরা বাঁচি বা মরি, ওদের কিছু যায়-আসে না”, শিল্পীর গলায় হতাশা স্পষ্ট।
বিগত দু’দিন ধর্ম বিচার করে মানুষ নিধন নিয়েও একাধিক মতামত উঠে এসেছে। উঠেছে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রসঙ্গ। একাংশের মতে, এই লড়াই ধর্মের সঙ্গে ধর্মের। আবার অনেকেই, তা মানতে নারাজ। সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম হয় না, তাঁদের বিশ্বাস এমনই। তবে ভরত কিন্তু রাখঢাক না করেই প্রথম দলের সমর্থক। তাঁর কথায়, “যাঁরা বলেন সন্ত্রাসবাদের ধর্ম নেই, তাঁরা তথাকথিত আঁতেল ছাড়া আর কিছুই নন। বাস্তবটা তাঁরা মেনে নিতে চান না। আমাদের উচিত কাশ্মীরকে অন্তত তিন বছরের জন্য বয়কট করা। ওখানকার লোকেরাও বুঝুক ট্যুরিজমের মূল্য কতটা। না খেতে পেয়ে থাকুক।”
আর যে স্থানীয়রা এই নৃশংসতার প্রতিবাদে পথে নেমেছেন? তাঁদেরও কি কাঠগড়ায় তুলবেন? ভরতের স্পষ্ট জবাব, “স্থানীয়দের মদত ছাড়া কি এত বড় একটা কাজ করে ফেলা সম্ভব? ওদের কাছে নিশ্চয়ই খবর আছে কারা কাজটা করতে মদত দিয়েছে? তাদের খুঁজে বার করে ওরা মেরে ফেলুক! সেটা কেন হচ্ছে না?”কাশ্মীর ছেড়ে এসে বেশ কয়েক বছর মুম্বইয়ে ছিলেন ভরত। বর্তমানের অস্থির প্রেক্ষাপটে সেই অতীত হাতড়ে অভিনেতা বলেন, “কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কথা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ভেবেছিলেন। তিনি শিবসেনার বালাসাহেব ঠাকরে। উনি আমাদের জন্য মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে ২০% সংরক্ষণ রেখেছিলেন। ওঁর প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
ভরত জানান, এপ্রিলেই স্ত্রী জয়শ্রী মুখোপাধ্যায় মেয়ে আর্যকে নিয়ে কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। তাতে বাধ সাধেন অভিনেতা নিজেই। ভরতের স্বগোতক্তি, “কে জানে কেন না করেছিলাম! গেলে কী হত ভাবলেই শিউরে উঠছি। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। সন্ত্রাসবাদীদের মাথা কেটে লালচৌকে ঝুলিয়ে রাখা হোক।”
(Feed Source: news18.com)