
কানাড়া ব্যাঙ্কের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম ঋণ প্রতারণা মামলায় পলাতক হিরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে এবার জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে মুম্বইয়ের এসপ্ল্যানেড কোর্ট।এই মামলাটি প্রায় ৫৫.২৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত। সম্প্রতি অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আর বি ঠাকুর এই পরোয়ানা জারি করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২ জুন। ওইদিন এই পরোয়ানা সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) জানিয়েছে, কানাড়া ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র মিলে বেজেল জুয়েলারি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে ৩০ কোটি টাকা এবং ২৫ কোটি টাকার কর্মনিধি ঋণ মঞ্জুর করেছিল। এই ঋণ সোনা এবং হিরের গহনা তৈরির জন্য দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি তা প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেনি, বরং ঋণ ফেরতও দেয়নি। ফলে ঋণদাতা কনসোর্টিয়াম ব্যাঙ্কগুলোর সম্মিলিতভাবে ৫৫.২৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ সিবিআইয়ের।২ ০২২ সালের জুলাই মাসে কানাড়া ব্যাঙ্কের চিফ জেনারেল ম্যানেজারের অভিযোগের ভিত্তিতে বেজেল জুয়েলারি (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেড-এর ডিরেক্টর মেহুল চোকসি, চেতনা জয়ন্তীলাল জাভেরি, দীনেশ গোপালদাস ভাটিয়া, মিলিন্দ অনন্ত লিমায়ে এবং অজ্ঞাত সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে সিবিআই এফআইআর দায়ের করে।
১৭ এপ্রিল সিবিআই আদালত মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানান্তর করে, যখন তারা জানতে পারে যে সিবিআই কোনও সরকারি কর্মীর নাম চার্জশিটে উল্লেখ করেনি। পরবর্তীকালে, ১৯ এপ্রিল অতিরিক্ত প্রধান বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বেলজিয়ামে পলাতক হিরে ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য, ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিরে ব্যবসায়ী ও গীতাঞ্জলি গ্রুপের প্রাক্তন কর্ণধার মেহুল চোকসি ২০১৮ সালে পিএনবির মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখায় ঋণ জালিয়াতির মূল চক্রী হিসেবে অভিযুক্ত হন। এই কেলেঙ্কারিতে তাঁর ভাগ্নে নীরব মোদী, তাঁদের পরিবারের সদস্য, কর্মচারী এবং বেশ কিছু ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। ভারতের তদন্তকারী সংস্থার প্রত্যর্পণ অনুরোধের ভিত্তিতে চোকসি গত ১২ এপ্রিল বেলজিয়ামে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি বেলজিয়ামের আদালতে জামিনের জন্য লড়ছেন। চোকসি ২০১৮ সালেই ভারত থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রথমে অ্যান্টিগুয়া এবং পরে বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ২০২১ সালে তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য ডোমিনিকায় গ্রেফতার হন এবং দাবি করেন যে ভারতীয় এজেন্টরা তাঁকে অপহরণ করেছে।
(Feed Source: hindustantimes.com)
