ড্যানির হ্যাটট্রিক, শ্রীলঙ্কাকে ৮-০ হারিয়ে SAFF U19-এর যাত্রা শুরু করল ভারত

ড্যানির হ্যাটট্রিক, শ্রীলঙ্কাকে ৮-০ হারিয়ে SAFF U19-এর যাত্রা শুরু করল ভারত

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করলেন ভারতের জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা ড্যানি মেইতেই লাইশরাম। ভারত ২০২৫ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে ৮-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু করে। ইয়ুপিয়ার গোল্ডেন জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচে আলো ছড়ালেন ড্যানি মেইতেই লাইশরাম। ভারতের ৮-০ জয়ের ম্যাচে নায়ক হয়ে ওঠেন মাত্র ১৭ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার।

তিনটি গোল কেমনভাবে করেছিলেন ড্যানি?

একটি গ্ল্যান্সিং হেডার, একটি বাম পায়ের দুর্দান্ত শট এবং একটি চতুর ইন্টারসেপশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হওয়া হ্যাটট্রিকটি শুধু তাঁর গুণমান আর উপস্থিত বুদ্ধিকেই নয়, বরং গোল করার তীব্র আগ্রহকেও ফুটিয়ে তোলে। ড্যানির হ্যাটট্রিকের পর মাঠে উপস্থিত ৫,০০০-র বেশি দর্শক, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুও, উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। ম্যাচ শেষে ভক্তদের সেলফি ও অটোগ্রাফের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ড্যানি ম্যাচ বল বুকে নিয়ে সকলকে হাসিমুখে উত্তর দেন।

ড্যানির জীবনের প্রথম হ্যাটট্রিট

ড্যানি বলেন, ‘আমার প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক করতে পেরে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। এই সাফল্য আমার কোচ ও সতীর্থদের সাহায্য ছাড়া সম্ভব হত না।’ হ্যাটট্রিকটি তিনি উৎসর্গ করেছেন মা-বাবাকে, যাঁরা টিভিতে খেলা দেখছিলেন।

ড্যানির ফুটবল যাত্রাটা কেমন ছিল?

ইম্ফলে জন্ম নেওয়া ড্যানির ফুটবল যাত্রা শুরু মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। ২০১৯ সালে ইম্ফল সিটি এফসি-তে যোগ দিয়ে তিনি সিরিয়াসভাবে ফুটবলকে পেশা হিসেবে নিতে শুরু করেন। এরপর সুধেবা দিল্লি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন তিনি। এর আগেও তিনি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সাফ ও এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন।

কোচের কথা মতোই খেলেছি- ড্যানি

কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের কৌশলে খেলেই মিডফিল্ড থেকে তিনটি গোলের সুযোগ পান ড্যানি। একটি হেডার, একটি বাম পায়ের দূরপাল্লার শট ও একটি চতুর ইন্টারসেপশন থেকে গোল করেন ড্যানি। কেভিন ডে ব্রুইনা ও ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজকে নিজের অনুপ্রেরণা মনে করেন ড্যানি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি ঠিক জায়গায় পৌঁছাতেই বল চলে আসে। কোচ আমাকে যে নির্দেশনা দেন, আমি শুধু তা অনুসরণ করি।’

বাবা-মাকে হ্যাটট্রিক উৎসর্গ করলেন ড্যানি

এই ম্যাচে দর্শকদের উষ্ণ সমর্থন ড্যানির জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। ভারতীয় ফুটবলের এই তরুণ প্রতিভা বলেন, ‘এত ভালো পরিবেশে খেলাটা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। আমি কৃতজ্ঞ।’ AIFF-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে ড্যানি বলেন, ‘আমি দলে অবদান রাখতে পেরে কৃতজ্ঞ এবং চাই এই পারফরম্যান্স যেন বজায় থাকে।’ এরপরে তিনি বলেন, ‘এই হ্যাটট্রিকটা আমি আমার পরিবারকে উৎসর্গ করছি। ম্যাচের পরে মা-বাবাকে ফোন করেছিলাম। ওরা বাড়ি থেকে খেলা দেখছিলেন এবং খুব খুশি ছিলেন’

ড্যানির ফুটবল যাত্রা-

ড্যানির ফুটবল-যাত্রা শুরু হয় পাঁচ বছর বয়স থেকে তাঁর জন্মস্থান ইম্ফলে। ড্যানি বলেন, ‘আমি আমাদের পাড়ায় খেলতাম, পরে কয়েকটি স্থানীয় অ্যাকাডেমিতে। ২০১৯ সালে ইম্ফল সিটি এফসি-তে যোগ দিই। তখনই ব্যাপারটা সিরিয়াস হয়ে ওঠে। এরপর ভুটান থেকে কোচ চেনচো দর্জি ইম্ফল সিটিতে এক বছর ছিলেন, পরে সুধেবা দিল্লি-তে চলে যান। তখন ও আমাকে ডাকেন। ২০২১ সালে সুধেবার হয়ে ডুরান্ড কাপে আমার সিনিয়র অভিষেক হয়। তারপর জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ ক্যাম্পে ডাক পাই।’ এরপরে মার্চ ২০২৫-এ নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র হয়ে আইএসএল অভিষেক করেছেন ড্যানি। ড্যানি ২০২২ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের অংশ ছিলেন এবং ২০২৩ সালের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে অংশ নেন, দুবারই কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের অধীনে ছিলেন ড্যানি।সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ড্যানির প্রস্তুতি

চলতি সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ব্লু কল্টসরা প্রায় দুই মাস ধরে ফার্নান্ডেজের অধীনে প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে, পরে টুর্নামেন্ট শুরুর এক সপ্তাহ আগে ইটানগরে ঘাঁটি গড়েন। আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা দারুণভাবে কার্যকর হয়েছে। এবং এমনকি মিডফিল্ডার হয়েও ড্যানি গোল করার জন্য সঠিক জায়গায় পৌঁছে হ্যাটট্রিক করেছেন।

(Feed Source: hindustantimes.com)