
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের খবরের শিরোনামে মাঈনুল আহসান নোবেল (Mainul Ahsan Noble)। অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত নোবেলকে গ্রেফতার করেছে ঢাকার পুলিস। ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, গতকাল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে ডেমরার সারুলিয়ার আমতলায় নোবেলের বাড়ি থেকে এক নারীকে উদ্ধার করা হয়। নির্যাতিতা এক কলেজ ছাত্রী।
গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘নোবেল, এক নারীকে সাত মাস একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতন করছিলেন। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে বাসাটি থেকে নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে নোবেলকেও গ্রেফতার করা হয়’। মঙ্গলবার প্রথমে ঢাকা মহানগর পুলিসের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। পরে ডেমরা থানা-পুলিসও এই তথ্য নিশ্চিত করে।
অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে ডেমরা থানায় করা মামলায় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদের আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এ মামলায় নোবেলের ডান হাত ২৬ মিনিট কাঠগড়ায় রেলিংয়ে আটকানো ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার পরিদর্শক মুরাদ হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
ওসি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, গত নভেম্বরে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে গুলশানে দেখা করার কথা বলে ডেকে নেন নোবেল। তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। পরে সাত মাস ডেমরার একটি বাড়িতে তাঁকে আটকে রাখেন নোবেল। এই সময় তিনি ছাত্রীকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন। এসব ঘটনা নিজের মোবাইলে ধারণ করেন। এই ভিডিও দিয়ে ছাত্রীকে তিনি ‘ব্ল্যাকমেল’ করছিলেন।
সম্প্রতি নোবেল এক নারীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে নামাচ্ছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় বলে উল্লেখ করেন ওসি মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ভিডিওতে থাকা নারীই এই ভুক্তভোগী ছাত্রী। ভিডিওটি দেখে ছাত্রীর মা–বাবা টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে ঘটনা জানান। গতকাল রাত ১০টার দিকে ডেমরার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিসের উপস্থিতি টের পেয়ে নোবেল পালিয়ে যান।
সোমবার রাত ২টোয় নোবেলকে ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ওসি মাহমুদুর রহমান। পুলিসের দাবি, নোবেল সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এ জন্য তিনি একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলেন, তবে পালানোর আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৩ সালে নোবেলকে গ্রেফতার করেছিল ঢাকার গোয়েন্দা পুলিস। প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় সেই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। জি বাংলার গানের শো সা রে গা মা পা’য় অংশ নিয়ে সবার নজরে আসেন নোবেল। তার গান দর্শকের মনে স্থান করে নেয়। পরে তার বেশ কিছু গান জনপ্রিয়তা পায়। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। একটা সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে শো করতে গেলেও সেখানেও তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
