
‘কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর হলেন বিজেপির সুপার স্পোকসপার্সন।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করতেই দলের সিনিয়র নেতার তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ। বিশ্ব মঞ্চে পাকিস্তানের পর্দা ফাঁস করতে সর্বদলের প্রতিনিধিরা বিদেশ সফর করছেন। যেখানে কংগ্রেসের শশী থারুর থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওবেইসিরা রয়েছেন। বিশ্ব মঞ্চে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের মুখোশ যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা টেনে খুলছেন, সেই সময় কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই শশী থারুরকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ বলেন, ‘কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এখন বিজেপির সুপার মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন। বিজেপি নেতারা যা বলছেন না, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং সরকারের পক্ষে সেই কথা বলছেন শশী থারুর।’ তিনি থারুরের পূর্ববর্তী সরকারগুলির অবদান সম্পর্কে বোঝাপড়ার অভাব এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কৃতিত্ব নিয়ে মোদী সরকারের কৃতিত্ব দখলের সমালোচনা করেছেন।
রাজ বলেন, ‘আগের সরকার কী করত, তা কি আদৌ জানেন উনি? এখন সেনার কাজের কৃতিত্বে ভাগ বসানো হচ্ছে। আগের সরকার এখনকার মতো ছিল না। এই সরকার কিছুই করে না, কিন্তু সবের কৃতিত্ব দাবি করে। শশী থারুর বিজেপি-র প্রচারের মুখ হয়ে উঠেছেন, তাদের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।’ কংগ্রেস আগেই জানিয়েছিল, ইউপিএ আমলে ছ’বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছিল। কিন্তু দেশের নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর বলেই, সেই তথ্য সামনে আনা হয়নি।
পানামায় একটি বক্তৃতায় শশী থারুর বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যা পরিবর্তিত হয়েছে তা হল,জঙ্গিরা এখন বুঝতে পেরেছে যে তাদের একটি মূল্য দিতে হবে, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’ তিনি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে উরি সার্জিকাল স্ট্রাইকের উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল প্রথমবার যখন ভারত জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এলওসি অতিক্রম করেছিল।
থারুর আরও উল্লেখ করেন যে, কার্গিল যুদ্ধের সময়ও ভারত এলওসি অতিক্রম করেনি, তবে উরি এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এটি করেছে।অপারেশন সিঁদুরের প্রশংসায় শশীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন। অপারেশন সিঁদুর চালাতেই হত। ২৬ মহিলার কপালের সিঁদুর মুছে দিয়েছিল, তাঁদের স্বামী ছিনিয়ে নিয়েছিল জঙ্গিরা। মহিলারা তাদেরও মেরে ফেলতে বলেছিলেন জঙ্গিদের। কিন্তু তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে এসে কী ঘটেছে বলতে পারেন। আমরা ওঁদের কান্না শুনেছি। আর তাই আমাদের মেয়েদের মাথা সিঁদুরের লাল রংয়ের সঙ্গে হত্যাকারী, হামলাকারীদের রক্তের লাল রং মিলিয়ে দেওয়া সঙ্কল্প নিই।’
এদিকে, শশীর সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব বাড়ছে বলে দীর্ঘ সময় ধরেই জল্পনা চলছে দিল্লিতে। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিরোধী শিবিরের বাকি নেতারা সেনাবাহিনীর প্রশংসা করলেও, শশী এককদম এগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনওয়ালা বলেছেন, একদিকে কংগ্রেস দেশ এবং তার সেনাবাহিনীকে সমর্থন করছে, আরও একদিকে তারা সেই সেনাবাহিনীকেই অপমান করছে এবং অপারেশন সিদুঁরকে ‘অপারেশন ব্লুস্টার’ বলে অভিহিত করছে।
তারইমধ্যে থারুরকে যে আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস, তা নিয়ে পালটা বিজেপি বলেছেন যে সাংসদকে হাত শিবির আক্রমণ করছে, কারণ উনি দেশকে এগিয়ে রেখেছেন। গান্ধী পরিবারকে এগিয়ে রাখেননি।
(Feed Source: hindustantimes.com)
