
রাজ্য দ্বারা চালিত সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর সিভিল সার্ভিসেস স্টাডি সেন্টার থেকেই পড়াশোনা করেছিলেন মেঘনা এবং আরও চার জন পরীক্ষার্থী। সব মিলিয়ে বাংলা থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় পাশ করেছেন। চলতি বছরের সফল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের নিয়ে রাজ্যের তরফে একটি সংবর্ধনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই মেঘনা বলেন যে, “আমি অন্ধকার আর অনিশ্চয়তায় ভরা একটা জায়গা থেকে এই দিকে চলে এসেছি। কিন্তু এখানে পৌঁছনোর জন্য যে কষ্ট আর সংগ্রামের প্রয়োজন, সেটা কি কখনও আমরা ভুলে যেতে পারব?”
এটা ছিল এই পরীক্ষায় মেঘনার দ্বিতীয় প্রয়াস। তাঁর কথায়, “গত বার ইন্টারভিউয়ের স্তর পর্যন্ত যেতে পারিনি।” প্রসঙ্গত তিনি সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর জেএনইউ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেন।
অন্যদিকে আবার ইউপিএসসি-পরিচালিত পরীক্ষায় প্রথম প্রয়াসেই ১৭০-তম স্থান অধিকার করেছেন ঊর্মি সিনহা। শৈশব থেকেই একজন আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, সেই কথাও ভাগ করে নিলেন তিনি। দর্শকাসনে তখন বসেছিলেন ঊর্মির মা পুনম। চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না। আবেগঘন হয়ে ঊর্মি বলে ওঠেন, “মা কেঁদো না…।” এইটুকু বলার পরেই গলা ধরে আসে ঊর্মির। আর কোনও কথাই বলতে পারলেন না।
এই পরীক্ষায় ৪৭৭-তম স্থান অধিকার করেছেন পারমিতা মালাকার। যদিও প্রশিক্ষণের জন্য বাইরে থাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। তবে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন পারমিতার অর্চনা মালাকার। তিনি বলেন যে, “আমার মেয়েকে এসএনটিসিএসএসসি যে পরিমাণ, সাহায্য করেছে, তাতে ধন্যবাদ বললেও কম হবে।” এখানেই শেষ নয়, পরীক্ষায় ৭৮৯-তম স্থান অধিকার করেন রাজদীপ ঘোষ। তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দর্শকাসনে উপস্থিত সকলকে চমকে দিয়ে তিনি জানান যে, “আগামী বছর আমি আমি আপনাদের সঙ্গে আবার পরীক্ষায় বসব।”
ওই অনুষ্ঠানে এসএনটিসিএসএসসি-র অ্যাকাডেমিক কনসালট্যান্ট এবং বর্ষীয়ান সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষক জ্যোতির্ময় পাল চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান পরীক্ষার্থীরা। সেই সময় তিনি আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী অশোক খেমকার কথা বলেন। কলকাতাতেই জন্মেছিলেন অশোক খেমকা। ৫৭ বছরের কেরিয়ার তাঁর। শুধু তা-ই নয়, প্রশিক্ষক জ্যোতির্ময় পাল চৌধুরী হেসে বলেন যে, “কোনটা ভুল হল, এটা জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে বরং এটা প্রশ্ন করা উচিত যে, কোনটা ঠিক ছিল।” আবার অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তাঁর কথায়, “জ্যোতির্ময় পাল চৌধুরী যে কথাটা বললেন, আমি সেটাই আরও একবার বলতে চাই। কখনও এটা ভুললে চলবে না যে, আপনারা এখানে দেশের মানুষের সেবা তথা সততার সঙ্গে সেবা করতে এসেছেন।”
এছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে সহর্ষ কুমার (১৫৩), প্রবীণ কুমার (৮৩৭), যশ কুমার (২২৭), প্রতিভা লামা (৪৬১), জোজিলা দোলকর ভুটিয়া (৭৬৫) এবং ঋষিতা দাস (৮৪০)-কে। এসএনটিসিএসএসসি চেয়ারপার্সন সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ বলেন যে, “আমাদের ২০২৪-এর ব্যাচ সত্যিই ভাল ফল করেছে — আমাদের কেন্দ্র থেকে ৫৪ জন প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, ১৭ জন পার্সোনালিটি টেস্ট পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছেন এবং ৫ জন চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছেন।”
