
দেবদাস, সিনেমার পর্দায় বহুবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই গল্পকে বিভিন্ন পরিচালক তুলে ধরেছেন। তবে সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত ‘দেবদাস’ আজও মানুষের মনে আলাদাই জায়গা করে রেখেছে। এই ছবির সব থেকে দুঃখজনক এবং আকর্ষণীয় দৃশ্য ছিল ছবির একেবারে শেষের দৃশ্য।
গল্প অনুযায়ী দেবদাস কালচক্রে এসে পৌঁছাবে পারো অর্থাৎ পার্বতীর শ্বশুরবাড়ির সামনে। সেখানেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে, হাজার চেষ্টা করেও দেবদাসের সঙ্গে দেখা করতে পারবে না পার্বতী। এই দৃশ্যটি দেখে চোখে জল আসেনি এমন দর্শক হয়তো খুঁজে পাবেন না আপনি। কিন্তু জানলে অবাক হয়ে যাবেন, এই নির্দিষ্ট দৃশ্যে ঐশ্বর্যের যে লাল পাড় সাদা শাড়িটি দেখানো হয়েছিল, সেটি তৈরি করতে মাত্র এক রাত সময় পেয়েছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার।
সম্প্রতি নিউজ এইট্টিন এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে ফ্যাশন ডিজাইনার নীতা লুল্লা সঞ্জয় লীলা বনশালীর দেবদাস ছবিতে কাজ করার একটি মজাদার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানান, কীভাবে হঠাৎ ঐশ্বর্যের জন্য একটি লম্বা শাড়ি তৈরি করার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন তিনি।
নীতা বলেন, ‘ঐশ্বর্যের লুক তৈরি করার জন্য আমাকে শুধু একরাত দেওয়া হয়েছিল। শেষের যে দৃশ্যটি আপনি দেখেছিলেন সেই দৃশ্যে যে শাড়িটি ঐশ্বর্য পরেছিলেন, সেটি প্রায় ১২ থেকে ১৪ মিটার লম্বা একটি শাড়ি ছিল। একটি সুতির দুর্গা পূজার শাড়ি দরকার ছিল আমার। সবকিছু প্রস্তুত করে আগের দিন পরিচালককে আমি যখন দেখাই, তখন তিনি বলেন যে এই শাড়িটা যথেষ্ট লম্বা নয়।’
নীতা আরও বলেন, ‘সেই মুহূর্তে পরিচালকের মনে হয়েছিল যে ঐশ্বর্যের শাড়িতে যেহেতু আগুন লেগে যাবে, তাই শাড়িটা আরও বড় করা উচিত। ছোট শাড়ি হলে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। পরের দিনে ছিল ওই শেষের দৃশ্যের শ্যুটিং। উপায় না পেয়ে রাত ১১ টায় একজন কাপড় বিক্রেতাকে ফোন করে দোকান খুলতে বলি। ২ – ৩ টি শাড়ি একসঙ্গে জুড়ে একটি লম্বা শাড়ি তৈরি করি।’
সবশেষে নীতা বলেন, ‘পরেরদিন ৮:৩০ মিনিট নাগাদ ওই শাড়িটা লাগত পরিচালকের। সারারাত জেগে আমাদের দুটি ১৩ মিটার লম্বা শাড়ি তৈরি করতে হয়েছিল। এটা এমন একটা অভিজ্ঞতা ছিল যা চিরকাল আমার মনে থেকে যাবে।’
প্রসঙ্গত, সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত ‘দেবদাস মুক্তি পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে ভীষণভাবে একটি সফল ছবি হিসেবে প্রমাণিত হয়। পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার জেতে এই ছবিটি। পুরস্কারে পুরস্কৃত হন এই সিনেমার কলাকুশলীরাও।
(Feed Source: hindustantimes.com)
