
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঘটকালির উপহার হিসেবে লুঙ্গি দেওয়ার কথা বলে ঘটককে বাড়িতে ডাকা হয়েছিল। নববিবাহিত বাড়িতে যেতে কালবিলম্ব করেননি ঘটক। যে বাড়িতে দুদিন আগে তাঁর সৌজন্যে বেজেছিল সানাই, সেখানে যে তাঁর এমন পরিতি হবে, তা হয়ত তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করেননি।
সানাই আর গোলাপের সুবাস মিটতেই তার দিকে ধেয়ে এল আক্রমণ। বাড়ির গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিয়ের ঘটককে। বাংলাদেশের বগুড়ার শেরপুরে গত রোববার গোয়ালপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তি বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটকের উপর আক্রমণ:
আহত মজিবর শেখ (৬৫) সুঘাট ইউনিয়নের ওমরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় মজিবরের ছোট ভাই নজরুল শেখ চারজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সুঘাট ইউনিয়নের সূত্রাপুর গোয়ালপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের (২১) সঙ্গে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঘাসুরিয়া গ্রামের মো. মুন্নার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের ঘটক ছিলেন মজিবর শেখ। একইদিনে কনে সুমাইয়াকে তাঁদের বাড়ি নিয়ে যান বর ও তার পরিবারের সদস্যরা।
হাসপাতালে ভর্তি ঘটক:
এরপর এমন গত রোববার রাতে আহত ঘটক মজিবর শেখকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একাধিক মারধরের চিহ্ন রয়েছে তার শরীরে।
এদিকে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মজিবর শেখ বলেন, রোববার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে জহুরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকজন আমাকে ডেকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তারা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর মেয়ে-জামাইয়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না।
কী ভাবে মারধোর করে?
তারা একটি গাছের সঙ্গে আমাকে বেঁধে স্যান্ডেলের সঙ্গে গরুর গোবর লাগিয়ে দেয় এবং লাঠি দিয়ে হাতে, পায়ে ও মাথায় মারধর করেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়। পরে আমার ভাই নজরুল শেখ এসে উদ্ধার করেন আমাকে।
এ বিষয়ে কনের বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, ৯ জুন তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েছেন। মেয়েকে তুলে দেওয়ার দুই দিন পর থেকেই মেয়ে ও তাদের সঙ্গে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন খারাপ আচরণ শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেনে নিতে পারছেন না তাঁদের। বিয়ের আগে ঘটক মজিবর শেখ জানিয়েছিলেন ছেলের পরিবার খুব ভালো। এ কারণে তার পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটককে বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে একটু মারধর করেছেন।
পুলিসের দ্বারস্থ:
মজিবর শেখের ছেলে মো. সোনাউল্লাহ শেখ বলেন, তার বাবা কোনও পেশাদার ঘটক নন, টাকার বিনিময়ে ঘটকালিও করেন না। উপহারের কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে যেভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা অমানবিক।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছি। প্রাথমিক তদন্তে মারধরের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
