
যদিও ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়, সবার আগে এ কথা স্বীকার করে নেওয়া উচিত হবে। মাঝে মাঝে নেটদুনিয়ায় নানা পুরনো ভিডিও নতুন করে ভেসে ওঠে, দেখতে দেখতে তা ভাইরালও হয়ে যায় এবং পরিণামে সেই ভিডিও নিয়ে নতুন করে তর্জা শুরু হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে। ২০১৮ সালের একটি ভিডিও আবার ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে একজন বাবা তাঁর দুই বছরের মেয়েকে বাঞ্জি জাম্পিংয়ের সময় ধরে রেখেছেন। ক্লিপটিতে মালয়েশিয়ান রিয়েলিটি তারকা রেধা রোজলানকে বাঞ্জি সরঞ্জামে বাঁধা অবস্থায় তাঁর মেয়ে মেকাকে নিয়ে ২০০ ফুট উঁচু একটি সেতুর উপরে ঝুলে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে যে শিশুটির গায়ে কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই, রোজলান মালয়েশিয়ার কুয়ালা কুবু ভারুতে একটি পাথুরে নদীর উপরে দুলতে দুলতে পিছন দিকে লাফ দেন। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার মেয়েটির নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন, দাবি করেন যে লাফ দেওয়ার সময় শিশুটিকে ভীত দেখাচ্ছিল। তবে, রোজলান দাবি করেন যে মেকাই বরং বাবার সঙ্গে স্টান্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিভাবক হিসেবে তা অনুমোদন যুক্তিযুক্ত কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে অনুসারে রেধা রোজলান বলেছেন, “মেকাই আমার সঙ্গে ঝাঁপ দিতে চেয়েছিল। কোনও জোর করা হয়নি। সে তার প্রথম ঝাঁপ দিব্যি উপভোগ করেছিল এবং আবারও তা করার অনুরোধ করেছিল, কিন্তু আমি ভয় পেয়েছিলাম। ও সম্পূর্ণ সুরক্ষা সরঞ্জামও পরেছিল।”
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মানবাধিকার আইনজীবী অ্যান্ড্রু খু বলেন, বাবা-মা এবং এই স্টান্টের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই ধরনের বিপজ্জনক কার্যকলাপে কোনও শিশুকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া শিশুটিকে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলার মতো হতে পারে। খু আরও বলেন যে, এই ধরনের কাজ কেবল অনিরাপদই নয়, আইনতও ভুল। তিনি আরও দাবি করেন যে, বাঞ্জি জাম্পিং পরিচালনাকারী সংস্থাটির অভিভাবককে শিশু নিয়ে লাফ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া ঠিক হয়নি।
তীব্র সমালোচনার মুখে বাঞ্জি জাম্প অপারেটর মহম্মদ শফিক আজমি মিররকে বলেন, “১৯৭ ফুট উচ্চতা থেকে কেউ লাফ দেওয়ার আগে আমাদের কর্মীরা সরঞ্জামগুলি পরীক্ষা করেন। আমি জানি যে নিরাপত্তা একটি উদ্বেগের বিষয়, কারণ এই ধরনের কার্যকলাপ মালয়েশিয়ায় প্রথম। আমরা নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাগুলি মেনে চলি, বিশেষ করে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলিতে, যেমন সেফটি রোপ, সঙ্গে যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবা প্রদানকারীরাও থাকেন।”
ভিডিওটি নিয়ে একজন ইউজার কমেন্ট করেছেন, “এটা জঘন্য। হেলমেট পরা থাকুক বা না থাকুক, হেলমেট না পরলেও, বেচারা শিশুটি ভীত হয়ে পড়ত এবং সম্ভাব্য বিপদে সম্মতি দেওয়ার মতো বয়সও তার নয়। বাবা-মা এবং বাঞ্জি জাম্পিং পরিচালকদের জেলে আটকে রাখা উচিত।”
আরেকজন ইউজার স্টান্টটিকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেন। নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি লেখেন, “লাফানোর সময়ে আমার পিঠ মুচড়ে গিয়েছিল। অনেকের রেটিনাও স্থানচ্যুত হয়, সম্মতি ছাড়া কারও এটা করা উচিত নয়, তার জন্যও বয়স ১৬ এবং তার বেশি হওয়া উচিত। ঘটনাটি অপরাধমূলক।”
আরও একজন কমেন্ট করেছেন, “এটা জঘন্য ব্যাপার। আমার সন্দেহ এই শিশুটি কী এতটাই বড় যে ঠিক কী ঘটতে চলেছে তা বুঝতে পারবে!”
শিশু অধিকার আইনজীবী গোহ সিউ লিনও ছোট মেয়েকে এই ধরনের বিপজ্জনক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়ে দুর্বল বিচারবুদ্ধি প্রদর্শনের জন্য বাবা-মায়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে বাঞ্জি জাম্পিং একটি এমন খেলা যা আঘাতের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষ করে এত ছোট শিশুর জন্য। গোহ উল্লেখ করেছেন যে এই বয়সের শিশুদের জন্য এই ধরনের স্টান্টে জড়িত হওয়া অস্বাভাবিক এবং অনিরাপদ। শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে হঠাৎ লাফানোর কারণে শিশুটি মানসিক আঘাত বা ভয়েরও শিকার হতে পারে। তিনি এই কাজটিকে একটি গুরুতর ত্রুটি এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য তৈরি আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসাবেই বর্ণনা করেছেন।
