
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের কেঁপে (Earthquake) উঠল পাকিস্তান (Pakistan)। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নিয়ে তিন বার কেঁপে উঠল পাকভূমি! ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আবহে বারবার কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তান। তার পরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে এখানে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (National Center for Seismology) এই ভূকম্পের খবরটি নিশ্চিত করে।
কম্পনের মাত্রা ৫.৫
মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানেই কেঁপে উঠল পাকিস্তানের মাটি। আজ, রবিবার ঘনঘন কেঁপে উঠল পাকভূমি। আজ, রবিবার কাকভোরে ফের তীব্র কম্পন অনুভূত হল পাকিস্তানে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। যদিও একাধিক সংবাদসংস্থার দাবি, কম্পনের মাত্রা ৫.২, কেউ-কেউ বলছে ৫.৩।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র
কী জানা গিয়েছে, ভূমিকম্প নিয়ে? ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল পাকিস্তানের পার্বত্য এলাকা বালুচিস্তানের বরখান শহর থেকে প্রায় ৬০ কিমি উত্তর-উত্তরপূর্বে, পশ্চিম মুলতানের কাছের অঞ্চল।
ক্ষয়ক্ষতি
যদিও এই ভূমিকম্পের ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে। হতাহতেরও কোনও খবর নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। রবিবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টে ৩০ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়।
পাকিস্তানে টানা ভূমিকম্প
এর আগে, বেশ কয়েকমাস ধরে পাকিস্তানে টানা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। কয়েকদিনের ব্যবধানেই বারবার কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানের মাটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি আপডেট দিতে দিতে যেন হাঁপিয়ে উঠছিল। রিখটার স্কেলে কোনও কম্পনের মাত্রা ছিল ৪, কোনওটার ৪.৬, কোনওটা আবার ৫.৭! সময়ের দিক থেকেও কোনও ঠিকঠিকানা ছিল না।
আফগানিস্তানেও অনুভূত হয়েছিল ভূমিকম্প। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছিল। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ ছিল ওই ভূমিকম্পের উৎসস্থল। কম্পন অনুভূত হয় আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত এবং তাজিকিস্তানের কয়েকটি অঞ্চলেও। এছাড়াও আতক, পেশোয়ার, মারদান, নওশেরা, সোয়াবি, উত্তর ওয়াজিরিস্তিান-সহ বিভিন্ন জেলায় কম্পন হয়েছিল।
কেন বারবার কম্পন?
ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সীমান্তে অবস্থিত একটি দেশ এই পাকিস্তান। ফলে সেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকেই। সেই কারণেই মাঝে মাঝে ভারতের এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে কম্পন অনুভূত হয়। আসলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ভারতীয় উপমহাদেশের এই অংশটি ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত অস্থির। এখানে প্রায়ই ইউরেশিয়ান প্লেট ও ভারতীয় প্লেট একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই দুটি প্লেটের মাঝে শক্তি সঞ্চিত হয়ে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়, যা বারবার এই অঞ্চলে ভূকম্পন ঢেকে আনে।
(Feed Source: zeenews.com)
