স্যুপ খেতে গিয়ে বিপদ! গলা ফুঁড়ে বেরোল মাছের কাঁটা, তারপর…

স্যুপ খেতে গিয়ে বিপদ! গলা ফুঁড়ে বেরোল মাছের কাঁটা, তারপর…

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সুরিয়ান বুপ্পা-আর্টের স্ত্রী সাং মাছের স্যুপ খাচ্ছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিক হলেও বিপত্তি ঘটে তারপরেই। স্যুপ খাবার পরই ওই মহিলার গলার কাছে আচমকা প্রবল ব্যথা শুরু হয়। জানা যায়, আচমকা গলার কাছে হাড়ের টুকরোর মতো কিছুর অস্ত্বিত্ব অনুভব করেন তিনি। একই রকম সমস্যায় পড়া অনেকের মতো, তিনিও ঘরোয়া প্রতিকারের চেষ্টা করেছিলেন, যেমন ভাত এবং রুটি খেয়ে চেষ্টা করেছিলেন ঠিক করার। কিন্তু তাতেও কোনও প্রতিকার হয়নি। শেষ পর্যন্ত দৌড়তে হয় হাসপাতালে।

হাসপাতালে এক্স-রে করেও সাংয়ের গলায় ফুটে থাকা কাঁটার হদিস করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। ম্যাজিকের মতো যেন কাঁটাটি উধাও হয়ে যায়। সেই ঘটনা দেখে তিনি এবং মেডিকেল টিম অবাক হয়ে যান। কারণ সাং-এর ক্রমাগত ব্যথার পরেও কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি।এদিকে, গলার মধ্যে কাঁটার কোনও চিহ্ন না পেয়ে সাং মনে করেন যে মাছের কাঁটাটি বেরিয়ে গিয়েছে। তাই হাসপাতাল থেকে সোজা বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই তাঁর গলায় ব্যথা কমছিল না। সেই সঙ্গে গলায় অস্বস্তিও হচ্ছিল।এরপর থাইরয়েডের সমস্যা সন্দেহ করে দ্বিতীয়বার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেন সাং। অদ্ভুতভাবে এবারও চিকিৎসকের নজরে কোনও অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়ে না। চিকিৎসক গলা ব্যথা কমানোর ওযুধ দিয়ে তাঁকে বাড়ি চলে যেতে বলেন।

গত ১৭ জুন রহস্যের উন্মোচন হয়। যখন সাং তাঁর গলার ব্যথা উপশম করার জন্য মলম লাগাচ্ছিলেন, তখন তিনি লক্ষ্য করেন গলার চামড়ার উপর খচখচে কিছু একটা। তারপরেই দেখেন কিছু একটা বেরিয়ে আসছে সাদা কাটার মতো। তিনি হালকা করে চাপ দিতেই ঘাড়ের পাশে ছিদ্র তৈরি হয়ে যায়।তাঁর স্বামী ওই মুহূর্তের ভিডিও করেন।আর দেরি করেননি। তড়িঘড়ি সাং ও তাঁর স্বামী হাসপাতালে ছুটে যান। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা সাংয়ের ত্বকের নীচ থেকে দুই সেন্টিমিটার লম্বা একটি মাছের কাঁটা বার করেন।চিকিৎসকেরাও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে স্বীকার করেন যে তাঁরা কখনও এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি।

চিকিৎসকরা জানান, যদিও ছোট মাছের কাঁটাগুলি সাধারণত পাচনতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে চলাচলের সময় অলক্ষিত থাকে বা সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে।কিন্তু মাছের কাঁটা গলায় একটা গেলে অবস্থা গুরুতর এবং অপ্রত্যাশিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমনটা সাং-এর ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধরা পড়েছে।

(Feed Source: hindustantimes.com)