ছ’বছরে সাত বার বিয়ে, ছ’বার ডিভোর্স, মাঝে অন্য সম্পর্কও, স্বামী-স্ত্রীর মামলায় হতভম্ব বিচারক

ছ’বছরে সাত বার বিয়ে, ছ’বার ডিভোর্স, মাঝে অন্য সম্পর্কও, স্বামী-স্ত্রীর মামলায় হতভম্ব বিচারক

নয়াদিল্লি: দাম্পত্যকলহ থেকে পরকীয়া, শেষে মামলা-মকদ্দমা। সেই মামলার শুনানিতে রীতিমতো ভিরমি খেলেন বিচারক। স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ করেন এক ব্যক্তি। স্ত্রীর প্রেমিকের কাছ থেকে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনের ইতিহাস দেখে চক্ষু চড়কগাছ হল বিচারকের। (Taiwan News)

তাইওয়ানের উপকূলীয় শহর তাইনান শহর থেকে এই মামলা সামনে এসেছে। স্ত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে তাঁর ‘বৈবাহিক অধিকার’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন ওই ব্যক্তি। দাবি করেন, বিবাহিত জেনেও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ওই তৃতীয় ব্যক্তি। শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত হন, একবার নন একাধিক বার। ফলে স্ত্রীর প্রেমিক তাঁকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। (Viral News)

কিন্তু প্রেমিক জানান, বিয়ের কথা লুকনো হয়েছিল তাঁর কাছ থেকে। তিনি জানতেন, ওই মহিলা বিবাহবিচ্ছিন্না। সেই মামলার শুনানি করতে গিয়ে ওই অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখেন বিচারক, আর তাতে চমকপ্রদ তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, যে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ আনছেন ওই ব্যক্তি, তাঁর সঙ্গে একবার নয়, দু’বার নয়, সাত-সাত বার বিয়ে হয়েছে তাঁর। বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ছ’বার। 

আদালত জানতে পারে, যে ব্যক্তি স্ত্রীর প্রেমিকের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন, ওই একই মহিলার সঙ্গে সাতবার বিয়ে হয়েছে তাঁর–১) প্রথমে ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর বিয়ে করেন তাঁরা, ওই মাসেরই ৩১ তারিখে ডিভোর্স হয়ে যায়। ২) দ্বিতীয়বার ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি বিয়ে করেন, বিচ্ছেদ হয় ১০ অগাস্ট। ৩) তিন দিন পর, ১৩ অগাস্ট ফের বিয়ে করলেও, বিচ্ছেদ ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর। ৪) চতুর্থবার ১৮ সেপ্টেম্বর বিয়ে করে, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি বিচ্ছেদ নেন। ৫) ওই বছরই পঞ্চম বারের জন্য ২০ মার্চ বিয়ে করেন তাঁরা, বিচ্ছেদ হয় ৩০ অক্টোবর। ৬) ২০২৪ সালেই ৫ নভেম্বর ষষ্ঠবারের জন্য বিয়ে করেন, বিচ্ছেদ হয় চলতি বছরের ২৬ মার্চ। ৭) ২০২৫ সালেরই ২ এপ্রিল মাসে সপ্তমবারের জন্য বিয়ে করেছেন পরস্পরকে।

বিবাহিত ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে সম্পর্কে জড়ান তাঁর স্ত্রী। এতে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। যদিও প্রেমিকের দাবি ছিল, অতীতে একসময় ওই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। কিন্তু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফের পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁদের। সেই সময় বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল ওই মহিলার। ওই মহিলা আদালতে জানান, গতবছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে অন্য সম্পর্কে জড়ান তিনি।  বিচ্ছেদের কথা গোড়াতেই জানিয়েছিলেন তিনি।  কিন্তু পরে ফের বিয়ে করলেও, সেকথা জানানো হয়নি। কারণ প্রেমিক জানতেই চাননি।

তদন্তে জানা যায়, যখন ওই তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হন মহিলা, সেই সময় বিবাহবিচ্ছিন্না ছিলেন তিনি। কতবার বিয়ে করেছেন, আর কতবার আলাদা হয়েছেন, তার হিসেবে নিজেরাও গুছিয়ে দিতে পারছেন না ওই দম্পতি। আর তাতেই মহিলার প্রেমিককে নিষ্কৃতী দেন বিচারক। তাঁকে কোনও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না বলে জানিয়ে দেন।বিচারক জানান, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এতবার ভাঙাগড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে যে, কারও পক্ষেই হিসেব রাখা সম্ভব নয়। স্বামীর দায়ের কার মামলাও খারিজ করে দেন তিনি। তবে তিনি চাইলে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারেন বলে জানানো হয়।

(Feed Source: abplive.com)