কলকাতার ফিল্মপাড়া টালিগঞ্জে চলতে থাকা পরিচালকদের কর্মসংস্থান ঘিরে জট অবশেষে পৌঁছল প্রশাসনিক আলোচনার পর্বে। ১৬ জুলাই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাকলেন, হাইকোর্টের পরামর্শ মেনেই।
পরিচালকদের কাজ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে এবার হস্তক্ষেপ হাইকোর্টের। টালিগঞ্জের পরিচালকদের কাজ করা ঘিরে চলা বিতর্কে এবার বড় মোড়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ১৬ জুলাই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাকলেন। এই বৈঠকের নির্যাস আদালতে জমা দিতে হবে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে।
মঙ্গলবার, পরিচালকদের দায়ের করা মামলার শুনানি হয় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। আদালত জানতে চায়, সমস্যার কোনও সমাধান হয়েছে কি না। পরিচালকদের পক্ষে আইনজীবী জানান, এখনও তাঁদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ফেডারেশনের সভাপতি ও সম্পাদক আড়াল থেকে টেকনিশিয়ানদের নির্দেশ দিচ্ছেন, যেন পরিচালকদের সঙ্গে কেউ কাজ না করে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অনির্বাণ ভট্টাচার্যের একটি গানের ভিডিও তৈরির কাজও বাধাপ্রাপ্ত হয়, এবং শেষ পর্যন্ত কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন,
“কারও জীবন, জীবিকা, ব্যবসা বা পেশাগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যায় না।”
এর পাশাপাশি তিনি জানতে চান, বৈঠক করার উদ্যোগ এতদিনে কেন নেওয়া হল? কেন এত দেরি?
এদিন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আইনজীবী আদালতকে জানান, ৭ জুলাই বৈঠকের নোটিস জারি করা হয়েছে। সেই বৈঠক ১৬ জুলাই সচিবের নেতৃত্বে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বৈঠকে মামলায় যুক্ত সব পক্ষকে ডাকা হবে এবং প্রত্যেককে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দিতে হবে। বৈঠকের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধানের দিক খুঁজতে হবে প্রশাসনকেই।
এই বৈঠকের রিপোর্ট ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। উল্লেখ্য, পরিচালক ও ফেডারেশনের বিরোধ নিয়ে মামলা বর্তমানে বিচারপতি অমৃতা সিনহার একক বেঞ্চে বিচারাধীন। এর আগে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ না করে ফেরত পাঠিয়ে দেয় একক বেঞ্চেই।
পরিচালকদের অভিযোগ, তাঁরা বারবার কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফেডারেশনের একাংশ তাঁদের বাধা দিচ্ছে। এই মামলার রায় ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর টালিগঞ্জের ইন্ডাস্ট্রির।
(Feed Source: news18.com)