East Bardhaman: প্রকাশ্য রাজপথে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিলেন এক মহিলা, তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী ও ছোট ছেলে।
গায়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা মহিলা সহ তিনজনের, হৈ হৈ কাণ্ড বর্ধমানে
পূর্ব বর্ধমান: প্রকাশ্য রাজপথে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিলেন এক মহিলা, তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী ও ছোট ছেলে। জ্বেলে ফেলেছিলেন দেশলাইও। ইচ্ছে একসঙ্গে পুড়ে মরার। কিন্তু তাতে বাধ সাধলো পথ চলতি পুরুষ মহিলারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে এমনই ঘটনা ঘটলোবর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সপরিবারে কেন এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন মহিলা?
প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ফের বিয়ে করেছে মা। দাঁড়িয়ে থেকে মায়ের আবার বিয়ে দিয়েছে ছোট ছেলে। তাতেই রাগ বড়ছেলের। লোকজন নিয়ে এসে মারধর, ভাঙচুর চালিয়েছে সে, এমনই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। আতঙ্কে নতুন স্বামী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান রেল স্টেশনে ঠাঁই নিয়েছিলেন মহিলা। বর্ধমানের বাদশাহী রোডের শর্মাপাড়ার এই মহিলা বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেটে ছোট ছেলে ও নব বিবাহিত স্বামীকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার উদ্যোগ নেন তিনি।
দ্বিতীয়বার বিয়ে করা রীণা ঘোষ লোকের বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন। কিছুদিন আগে শরীর খারাপ হওয়ার কারণে কাজ নেই তার। এখন ছোট ছেলে আর দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে এই বর্ষায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন মাঝবয়েসী ওই মহিলা। কয়েক দিন তাঁরা বর্ধমান রেল স্টেশনে কাটিয়েছেন। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে চলে আসেন কার্জন গেটে।
রীনা দেবী জানান, ছয় বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন। বাকি জীবনটা সুস্থভাবে বাঁঁচতে রাজমিস্ত্রির কাজ করা যুবক রাকেশ সরকারকে বিয়ে করেন কয়েকদিন আগে। ছোট ছেলে দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দেয়। তাঁর দাবি, পাড়ার লোকেদের জানিয়েই তাঁরা এই পদক্ষেপ নেন।
কিন্তু এতে চরম রুষ্ট হয়েছে মহিলার বড় ছেলে বিকাশ ঘোষ। নতুন স্বামী রাকেশ সরকার জানান, বড় ছেলে দলবল জুটিয়ে মারধর করে। ভাঙচুর, লুটপাট চালায়। বাড়িছাড়া করার হুমকি দেয়। প্রেম করে কেন বিয়ে করেছি তা নিয়েই তাদের ক্ষোভ। বিকাশ মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, কেউ তাঁদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেননি। খাবারও জুটছে না। তাই এই পদক্ষেপ নেন তাঁরা।
(Feed Source: news18.com)