শুধু ক্যানসারেরই নয়, দরকার আরও কিছু দিক থেকে বহুমুখী চিকিৎসা, মারণ ব্যাধিকে পরাস্ত করার নতুন পথ দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

শুধু ক্যানসারেরই নয়, দরকার আরও কিছু দিক থেকে বহুমুখী চিকিৎসা, মারণ ব্যাধিকে পরাস্ত করার নতুন পথ দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

আসলে, ভারতে প্রতি বছর ১৪ লক্ষেরও বেশি ক্যানসারের ঘটনা রিপোর্ট করা হয় এবং এই রোগীদের বেশিরভাগেরই তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা হয়, যার ফলে সামগ্রিক চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বহুমুখী পদ্ধতি কেবল চিকিৎসার গতিই ত্বরান্বিত করে না, বরং রোগীর মৃত্যুহার কমিয়ে দিয়ে বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি করে আরও ভাল ফলাফল প্রদান করে।

এটা অস্বীকারকরার উপায় নেই যে বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসা ক্রমাগত দ্রুত বিকশিত হয়ে চলেছে। এই বহুমুখী পদ্ধতির উপকারিতা কেবল রোগের চিকিৎসাতেই নয়, একই সঙ্গে তার বাইরেও বিস্তৃত, এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ দল সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করে রোগীকে চিকিৎসার যাত্রাপথে সাহায্য করে। বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে, তাঁদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং যোগাযোগের ভিত্তিতে রোগ নির্মূল করা আরও সহজ হয়ে ওঠে। সিঙ্গাপুরের পার্কওয়ে ক্যানসার সেন্টার কয়েক দশক আগে একটি ছোট দল নিয়ে এই অনুশীলন শুরু করলেও বর্তমানে তারা এই ক্ষেত্রে অগ্রগামী।

মেডিকেল অনকোলজিস্ট এবং মেডিকেল ডিরেক্টর, সিনিয়র কনসালটেন্ট, ডা. আং পেং তিয়াম (Dr. Ang Peng Tiam, Senior Consultant, Medical Oncologist and Medical Director) এই প্রসঙ্গে বলেন, “একটি বহুমুখী পদ্ধতি রোগীদের জীবনকে সহজ করে তোলে, কারণ তাদের একাধিক অ্যাপয়েন্টমেন্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না। যেমন, যদি কোনও রোগীর HER-2 পজিটিভ স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে, তাহলে তাঁর রোগ নির্ণয়ের জন্য একজন গাইনোকোলজিস্ট দেখাতে হবে, একজন সার্জন যিনি টিউমারের অপারেশন করবেন তাঁর সাহায্য লাগবে এবং অঙ্গগুলির পুনর্নির্মাণ অস্ত্রোপচারের জন্য একজন প্লাস্টিক সার্জনের সঙ্গেও দেখা করতে হবে। কিন্তু একটি বহুমুখী দলে এই প্রক্রিয়াটি একটি একক পরিকল্পিত মডিউলে অনেক সরল হয়ে যায়। এটি রোগীদের জন্য কেবল সময়ই সাশ্রয় করে না, বরং এটি মানসিক বোঝা এবং আঘাতও কমিয়ে আনে।”

দলগত পারস্পরিক সহায়তা ছাড়াও এই পদ্ধতি ভারতকে ভার্চুয়াল বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে ক্যানসারের বোঝা মোকাবিলায় সহায়তা করে। এই দলগুলো শহর ও গ্রামীণ ভারতের মধ্যে ব্যবধান পূরণ করতে সহায়তা করে, কারণ তারা স্থানীয় ডাক্তারদের চিকিৎসার সময়সূচী আরও ভালভাবে পরিচালনা করতেও সহায়তা করে।

এই বিভাগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডা. আং আরও বলেন যে পার্কওয়ে ক্যানসার সেন্টার সিঙ্গাপুর রোগীদের এই পরিষেবাগুলি নির্বিঘ্নে প্রদানের জন্য কীভাবে অনন্য অবস্থানে রয়েছে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে এই পদ্ধতির সুবিধাগুলি আরও তুলে ধরেন:

পার্সোনালাইজড চিকিৎসা পরিকল্পনা

এটি জেনেটিক প্রোফাইল এবং জীবনধারা সহ ব্যক্তিগত চাহিদাগুলি সাবধানে মূল্যায়ন করে। এটি প্রতিটি রোগীর প্রোফাইলের জন্য তৈরি একটি অত্যন্ত নির্দিষ্ট এবং যথাযথ চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্য

এই বহুমুখী পদ্ধতি বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে কেস বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা দেয়। তার ফলে এটি মসৃণ ভাবে রোগীর প্রয়োজন এবং পছন্দ অনুসারে সবরকম তথ্য উপস্থাপিত করে প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রদান করতে সক্ষম।

নির্বিঘ্নে প্রতিটি স্তরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া

যেহেতু এই পদ্ধতি একটি দল নিয়ে কাজ করে, সেহেতি তা চিকিৎসার পথকে সহজতর করতে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিচালনা করা, যার ফলে অপেক্ষার সময় ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় এবং সাধারণত ক্যানসার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত লজিস্টিকাল সমস্যাও দূর হয়।

সামগ্রিক রোগী সহায়তা

এই বহুমুখী চিকিৎসা ক্লিনিকাল দিকের বাইরেও প্রসারিত। এটি একই সঙ্গে পেইন ম্যানেজমেন্ট, মানসিক পরামর্শ, পুষ্টিগত নির্দেশিকা এবং উপশমে প্রয়োজনীয় যত্ন-সহ সম্পূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।

শুধু সিঙ্গাপুর নয়, পার্কওয়ে ক্যানসার কেয়ার ভারতেও কর্কট ব্যাধিতে আক্রান্তের যত্নের মান উন্নত করার জন্য নিবেদিতপ্রাণ, তারা নিশ্চিত করে যে প্রতিটি রোগীর পুনরুদ্ধারের পথে যেন ব্যাপক, সমন্বিত এবং সহানুভূতিশীল সহায়তা পাওয়া যায়। এটি বহুমুখী পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যানসারের দুরূহ চিকিৎসাকে এক যত্নে রূপান্তরিত করে, রোগীর সুস্থতার ফলাফল উন্নত করে।

(Feed Source: news18.com)