
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের নজর এড়িয়ে গোপনে বিশাল এক বাঁধ– যার পোশাকি নাম মেডগ ড্যাম (Medog Dam)– তৈরি করছে জি জিনপিংয়ের দেশ চিন (China’s upcoming secretive mega-dam on Yarlung Tsangpo)। ভারতসীমান্ত (Indian border) থেকে মাত্র ৫০ কিমি দূরে। চিনের এই প্রকল্পটিকে অরুণাচল (Arunachal Pradesh) একটি টাইমবোমার (ticking time bomb) সঙ্গে তুলনা করেছে। প্রসঙ্গত, ভারত পহেলগাওঁ-হামলার (Pahalgam Attack) প্রতিবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধুজলচুক্তি রদ (Sindhu Water Treaty Ban) করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছে। পাকিস্তানও চিনের নাম করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, ভারতকেও ভবিষ্যতে একই ফল ভুগতে হবে। কিন্তু পাকিস্তানের দিক থেকে সেটা কীভাবে সম্ভব? ভেবেছে ভারত। অবশেষে, ভারতের মনে হচ্ছে, এই মেডগ ড্যাম নিয়েই ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল পাকিস্তান! তাই কি? সময়ই বলবে।বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ
চিনের এই আসন্ন বাঁধ, যার নাম মেডগ ড্যাম, এটি বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ হতে চলেছে। অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিমি দূরে। তিব্বতের ইয়ারলাং সাংপো এলাকায় ১৩৭ বিলিয়ন ডলার খরচে ৬০ হাজার মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রকল্পের জন্য তৈরি হচ্ছে এই বাঁধ। গোটাটাই চলছে অত্যন্ত গোপনে, ভারতকে লুকিয়ে। কিন্তু ভারত ভূখণ্ডের এত কাছাকাছি হওয়ায় এই বাঁধ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে অরুণাচল, উদ্বিগ্ন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী।
‘ওয়াটার বম্ব’?
চিনা সেনার চেয়ে চিনের এই জলপ্রকল্প বেশি ভয়ঙ্কর! বলেছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা খান্ডু। তিনি এই বাঁধকে সরাসরি ওয়াটার বম্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সাংপো নদীটিই ভারতে প্রবেশ করে অরুণাচলে সিয়াং ও অসমের উপর দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পথে ব্রহ্মপুত্র হয়েছে। তাই, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে সিয়াং ও ব্রহ্মপুত্রের জলস্তরের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সরাসরি চিনের হাতে চলে যাবে। অন্তত তেমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী। বেজিং বাঁধ খুলে দিয়ে বাড়তি জলস্রোত ভারতে ঠেলে দিয়ে ভারতে বন্যা-পরিস্থিতিও তৈরি করে দিতে পারে বলে দাবি প্রেমার। আবার বাঁধের মুখ বন্ধ করে চিন ভারতে জলসংকট তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা।
পরিবেশ ও ভূ-রাজনৈতিক খুঁটিনাটি
ভারতের এতসব আশঙ্কার অন্যতম কারণ হল, চিন এই বাঁধ নির্মাণকাজে নেমে কোনওরকম আন্তর্জাতিক জলচুক্তিতে সই করতে নারাজ। পাশাপাশি, যেভাবে এত বড় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিকে চিন সকলের থেকে লুকোনোর চেষ্টা করছে, সেটাও খুব ভালো লক্ষণ নয়। সেটা অবধারিত ভাবে ভাবাচ্ছে ভারতকে, ভাবাচ্ছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। শুধু তাই নয়, এই বাঁধের পরিবেশগত ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
