
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মৃত্যুই কি জীবনের শেষ (End of the Life)? মৃত্যুর পরে কী ঘটে? এ নিয়ে বহুজনের মনে বহু প্রশ্ন, কৌতূহল, জিজ্ঞাসা, ভয়, আতঙ্ক, রহস্যও। সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিতেই তদন্তে নেমেছেন এ শহরের ভূতের গোয়েন্দারা। যাঁদের পোশাকি নাম– ‘ডিকেকটিভস অফ সুপারন্যাচারাল’ বা সংক্ষেপে ‘ডিওএস’ (Detectives of Supernatural/DoS)।
কলকাতার ভূতের গোয়েন্দাদল
শুধু এ শহরের ভূতের গোয়েন্দারাই নন, বিশ্ব জুড়ে এ নিয়ে চলছে নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা। আর সেই সব গবেষণার আলোকেই মৃত্যু-পরবর্তী জীবন নিয়ে যেমন মিলছে কিছু প্রশ্নের উত্তর, তেমনই উঠছে নতুন-নতুন প্রশ্নও। খুলে যাচ্ছে পুরনো কোনও রহস্যের জট। সেই কর্মযজ্ঞে সামিল কলকাতার ভূতের গোয়েন্দাদলও। তারাও তাদের মতো করে এই রহস্যের পর্দা সরাতে নেমে পড়েছ।
মস্তিষ্ক সত্যিই থেমে যায়?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জিমো বোরজিগিন সম্প্রতি দেখেছেন, মৃত্যুর পরে কয়েক সেকেন্ডের জন্য মানুষের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকভাবে তীব্র ইলেকট্রিক সিগন্যাল দেখা যায়। ঠিক যেন কোনো শেষ মুহূর্তের আগের চেতনা-বিস্ফোরণ। DoS-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অলৌকিক-বিশেষজ্ঞ দেবরাজ সান্যালও বলেন, ”আমরা এমন কয়েকজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছি, যাঁরা ক্লিনিকালি মৃত অবস্থায় ‘আত্মার উঠে যাওয়া’, ‘আলো দিয়ে টান’ বা ‘মৃত আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করা’র মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। এরপর কিন্তু এই ঘটনাগুলিকে আর ‘কাল্পনিক’ বলা যায় না।”
মৃত্যুর পরেও সক্রিয় জিন?
জীবন থেমে গেলেও, মৃত্যু-পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরে কিছু নির্দিষ্ট জিন সক্রিয় থাকে। এই বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে ‘থানাটো-ট্রান্সক্রিপটোম’ নামে একটি গবেষণায়। এ নিয়ে দেবরাজ সান্যাল বলেন, ”কিছু জিন মৃত্যুর পরেও ফের জেগে ওঠে। সম্ভবত কিছু আত্মা মৃত্যুর পরও কোনও ভাবে শরীরের জিনগত স্তরে প্রভাব ফেলে। মৃতদেহ থেকে তখন রহস্যময় ‘শক্তির নির্গমন’ ঘটে। যা আমাদের একাধিক তদন্তে দেখা গিয়েছে।”
কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও চেতনার রহস্য
কয়েকজন বিজ্ঞানী, বিশেষত ড. স্টুয়ার্ট হ্যামেরফ মনে করেন, চেতনা শুধু মস্তিষ্কের ফল নয়, এটি কোয়ান্টামস্তরে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডেও বিদ্যমান। যদি তা-ই হয়, তবে, মৃত্যু মানে চেতনার শেষ নয়, বরং এক স্তর থেকে আরেক স্তরে রূপান্তর।
‘ডিওএস’-এর কর্ণধার দেবরাজ সান্যাল বলেন, ‘তন্ত্র-যোগ, প্রেতযোগ বা আত্মাসাধনা– এসব ভারতীয় প্রথার মূলেও ছিল আত্মা ও চেতনার রূপান্তরের ধারণা। আধুনিক কোয়ান্টাম গবেষণাও এখন সেই বিশ্বাসকেই বৈজ্ঞানিক ভাষায় ব্যাখ্যা করছে।’
মৃত্যু ও ‘নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স’
অনেকেরই ‘নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স’ বা ‘এনডিই’ (NDE) হয়। অনেকেই যমের মুখ থেকে ফিরে এসে জানিয়েছেন, তাঁরা আলোয়-ভরা এক পথ দেখেছেন, মৃত আত্মীয়ের দেখা পেয়েছেন, আবার অনেকে দেখেছেন পূর্বজন্ম। এই অভিজ্ঞতাগুলিকে বিজ্ঞান এখন আর পুরোপুরি ভ্রান্ত বলছে না।
প্রসঙ্গত, DoS-এর ডেটাবেসেও এমন ৫০টিরও বেশি ‘নিয়ার ডেথ কেস’ নথিভুক্ত আছে। এঁদের এক কিশোর জানায়– ”আমি নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার পর উপরে উঠে নিজের দেহ দেখতে পাই। আর তখন আমার দাদু এসে বলেন, ‘তোমার সময় এখনো আসেনি।’ তার পরেই আমি ICU-তে জেগে উঠি।”
তিব্বতের ‘তুকদাম’ ও মৃতদেহে প্রাণ?
তিব্বতি বৌদ্ধদের ‘তুকদাম’ প্রথা অনুযায়ী, কেউ কেউ মৃত্যুর পর ৭–২১ দিন পর্যন্ত ‘মেডিটেটিভ স্টেটে’ থাকেন। তখন মৃতদেহে পচন হয় না, গন্ধ নেই, এমনকি ত্বকও নরম থাকে। ২০২৪ সালে DoS-এর দল লাদাখে এমন এক ঘটনার তদন্ত করে। তারা জানায়, ‘এক সাধুর মৃত্যু হয়, কিন্তু ১১ দিন পরেও তাঁর শরীর অপরিবর্তিত ছিল। মেডিক্যাল রিপোর্টেও decomposition ধরা পড়েনি। আমরা সেটা বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।’
জীবন না মৃত্যু’
প্রসঙ্গত, DoS-এর আসন্ন প্রকল্প: GHOST FILES! Detectives of Supernatural এখন একটি পূর্ণাঙ্গ রিসার্চ সিরিজ তৈরি করছে– ‘GHOST FILES: জীবন না মৃত্যু’, যেখানে বাস্তব কেস, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও প্রাচীন ধর্মীয় প্রথাগুলির সংমিশ্রণে খোঁজা হবে, মৃত্যুর পরে সত্যিই কী ঘটে! DoS-এর পক্ষে দেবরাজ জানান, ”আমরা শুধু প্রেতাত্মা খুঁজি না– আমরা খুঁজি চেতনার রহস্য, আত্মার গন্তব্য এবং জীবনের গভীরতর অর্থ। আজকের বৈজ্ঞানিক দুনিয়ায় যেখানে মৃত্যু মানে নিছক জীবনের সমাপ্তি, সেখানে Detectives of Supernatural প্রমাণ করছে– মৃত্যু হয়তো শেষ নয়, বরং এক রহস্যময় শুরু! আসুন, আমরা মৃত্যুকে আর ভয় নয়, বরং প্রশ্ন করি।”
(গবেষণার উৎস: University of Michigan, Stuart Hameroff, Tibetan Monasteries, DoS Field Reports)
(Feed Source: zeenews.com)
