Animals Get Signals of Tsunami Earthquake: ভূমিকম্প-সুনামি ইত্যাদি প্রাণীরাই কীভাবে আগে বুঝতে পারে, কেন? জানলে স্তম্ভিত হবেন…

Animals Get Signals of Tsunami Earthquake: ভূমিকম্প-সুনামি ইত্যাদি প্রাণীরাই কীভাবে আগে বুঝতে পারে, কেন? জানলে স্তম্ভিত হবেন…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভমিকম্পের (Earthquake) পরেই বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এটা প্রকৃত প্রসঙ্গ নয়। আসল কথা হল– প্রাণীরা কি ভূমিকম্প (Earthquake) ও সুনামির (Tsunami) আগাম ইঙ্গিত পায়? পেলে, প্রাণীরা সেটা কীভাবে পায়? এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত আশ্চর্য। তাঁরা মনে করেন, তাহলে কি প্রাণীরা মানুষের আগেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলির আভাস পায়?

আগাম আভাস

ভমিকম্পের পরেই বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এটা প্রকৃত প্রসঙ্গ নয়। আসল কথা হল– প্রাণীরা কি ভূমিকম্প ও সুনামির আগাম ইঙ্গিত পায়? পেলে, প্রাণীরা সেটা কীভাবে পায়? এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত আশ্চর্য। তাঁরা মনে করেন, তাহলে কি প্রাণীরা মানুষের আগেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলির আভাস পায়?

শব্দ, তরঙ্গ

মানুষের অনেক আগেই প্রাণী, পাখি এবং সামুদ্রিক জন্তুরাও প্রাকৃতিক বিপদের ইঙ্গিত পায়। সুনামি এলেও সেটা হয়। আসলে বিশেষ কিছু শব্দ, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, তরঙ্গ, তডিচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি জন্তুদের ক্ষেত্রে কাজ করে।

আশ্চর্য প্রাণীরা

ভারত, জাপান, চিন ইন্দোনেশিয়া, ইটালিতে বহুবার প্রাণীদের এই গুণপনার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। যেমন, কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠেছে, পাখিরা উড়তে আরম্ভ করেছে, সাপেরা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে। যেমন, ২০০৪ সালের সুনামির আগে ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপে হাতিরা উঁচু জায়গায় উঠে গিয়েছিল। অথচ মানুষ কিছুই বুঝতে পারেনি! ভূমিকম্পে পৃথিবীর স্তর থেকে যে লো-ফ্রিকোয়েন্সি ইনফ্রাসাউন্ড এবং সিসমিক ওয়েভ উঠে আসে তা প্রাণীরাই প্রথম বুঝতে পারে।

সমুদ্রসিংহ, তিমি

রাশিয়ার ভূমিকম্পের জেরে সি-লায়নদের মর্মান্তিক দৌড়ের ছবি দেখে নেটপাড়া স্তম্ভিত। একটি ভিডিয়ো ফুটেজ মিলেছে। সেটাকে স্ট্রাইকিং বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্ট্রাইকিং-ই বটে! রাশিয়ার অ্যান্টসিফেরভ দ্বীপের প্রত্যন্তে অসংখ্য সি লায়ন দৌড়ে পালাচ্ছে সেই ভিডিয়োতে। সুনামির ঢেউ এসে আছড়ে পড়তেই প্রাণীগুলি সতর্ক হয়ে গিয়েছে। চারটি তিমিমাছ ভেসে এসেছে জাপানের উপকূলে। ভূমিকম্পের পরের এক ভয়াল সুনামির পরে জাপানের হোক্কাইডো উপকূল থেকে ২৫০ কিমি দূরের এই ছবি মর্মান্তিক।

৮.৮ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্প

৩০ জুলাই, বুধবার ভোরে ৮.৮ মাত্রার এক ভয়ংকর ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাশিয়ার পূর্ব উপকূল। ১৯৫২ সালের পরে এটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প রাশিয়ায়। ২০১১ সালের পর এত শক্তিশালী ভূমিকম্প সারা বিশ্বে আর হয়নি। বুধবার ভোর ৪টে ৫১ মিনিটে রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে ১২৫ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে ভূমিকম্প। আভাচা বে নামে এক শহরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৯.৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ৮.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ৭.৫ মাত্রার আফটারশকও হয় বলে খবর।

ধ্বংস

ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে ঘটা সুনামির ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে রাশিয়ার পূর্বের বন্দর শহর সেভেরো-কুরিলস্ক। ২০০০-এরও বেশি মানুষ বিপন্ন। জলের তলায় ডুবেছে বাড়িঘর। প্রাণহানির খবর এখনও পাওয়া যায়নি। সুনামির ঢেউ জাপানের উত্তর ও পূর্ব উপকূলেও আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া দফতর। সুনামির সাইরেন বাজছে হনলুলুতে। ভূমিকম্প ও সুনামির জেরে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আশঙ্কা ছড়িয়েছে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে। ইতিমধ্যেই ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে সমস্ত কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরেই সুনামি

ভূমিকম্পের পরই সঙ্গে সঙ্গে আছড়ে পড়েছে সুনামি। সুনামির ঢেউ প্রায় ৩ থেকে ৪ মিটার উঁচু (১০-১৩ ফুট)। প্রাথমিক ভাবে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছে রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে– কামচাটকা, সেরগেই, লেবেডেভ এলাকায়। জাপানের উত্তরে হোক্কাইডোর দক্ষিণ উপকূলেও আছড়ে পড়ে সুনামি। ৪০ সেন্টিমিটার, মানে ১.৩ ফুট উঁচু সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ে সেখানে। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় এসে পৌঁছেছে ভয়ংকর সুনামি। সবকিছু ঠিক থাকলে ভারতীয় সময়ে দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ সুনামি আসবে ক্যালিফোর্নিয়ায়। সানফ্রানসিসকোতে আর একটু পরে। এরও মিনিটদশেক পরে দক্ষিণ ক্য়ালিফোর্নিয়ায়। ভূমিকম্পের পরের প্রথম সুনামিটা এসেই গিয়েছে। সেটি আছড়ে পড়েছে আলাস্কার পশ্চিমে অ্যালিউশিয়ান আইল্যান্ডে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কোস্ট এরিয়াই নয়, ভয়ে কাঁপছে জাপানও।

রিং অফ ফায়ার, সরছে অখোটস্ক প্লেট

কামচাটকা পেনিনসুলা  প্রশান্ত মহাসাগরের বিখ্যাত রিং অফ ফায়ার-অঞ্চলের একটা অংশ। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চলে বারবার লাভা উদগীরণ ঘটে এবং এসবের জেরে তীব্র ভূমিকম্প এখানে চলতেই থাকে। কামচাটকা পেনিনসুলার দক্ষিণ অংশটা প্রশান্ত মহাসাগরের নীচের প্যাসিফিক প্লেটের নীচে ঢুকে পড়ে। দু’পাশে ও নীচের দিকে ঢুকে পড়ে এটা। এই টেকটোনিক অ্যাক্টিভিটিজের জন্যই সমস্ত এলাকাটি কম্পনপ্রবণ। এখানে অখোটস্ক প্লেট রয়েছে। এই প্লেটটি প্রতি বছর ৮৬ মিলিমিটার করে সরছে। ফলে এসবের জেরে এখানে ভূকম্প ও সুনামি ঘটা খুব স্বাভাবিক। তা ছাড়া এই ওশেন ফ্লোরে রয়েছে কুরিল-কামচাটকা ট্রেঞ্চ– ট্রেঞ্চটি ১০ কিমি গভীর!

(Feed Source: zeenews.com)