
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটার ব্যুরো: মানুষের শরীরে অজান্তেই বেড়ে ওঠে নানা কঠিন রোগ। রোগের লক্ষণকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান অনেকেই। তখনই বাড়ে বিপদ। এছাড়া আমরা বুঝতেও পারি না আমাদের শরীরে কোনও রোগের বাসা বাঁধছে কিনা। ডাক্তামহল অনুযায়ী ২৭ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বছরে অন্তত একবার শারীরিক পরীক্ষা করানো উচিত। শরীর বাইরে থেকে দেখতে ঠিক লাগলেও, ভিতরে ভিতরে নানান রোগ বেড়ে উঠতে পারে। নিউরোপ্যাথ এবংপুষ্টিবিদ ডা. অনামিকা রাঘুভানশি জানান সময় থাকতে শরীরের যত্ন নেওয়া উচিত। শরীরে হরমোন, শক্তি, ইমিউনিটি এবং নানান রোগ থেকে বাঁচতে বছরে অন্তত একবার গোটা শরীরের পরীক্ষা করানো উচিত।
৮ টি শারীরিক পরীক্ষা যা ২৭ থেকে ৩৫ বছরের মহিলাদের করানো উচিত-
কমপ্লিট বডি কাউন্ট(CBC)-
এই পরীক্ষার মাধ্যমে একই সাথে অনেক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। রক্ত কণিকার মাত্রা, হিমোগ্লোবিন, অ্যানেমিয়া, ইনফেকশন, প্রদাহ এবং ইমিউনিটির সমস্যা এই একটি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা সম্ভব। আপনি যদি সারাক্ষণ অসুখে ভোগেন এবং খুব সহজেই ঠান্ডা লেগে যায় তাহলে বুঝবেন আপনার কোনও সুপ্ত রোগ থাকলেও থাকতে পারে।
থাইরয়েড প্রোফাইল(T3, T4, TSH)-
থাইরয়েড মেয়েদের শরীরের শক্তি, মুড, মেটাবলিজম, ফার্টিলিটি, ত্বক এবং হার্টে প্রভাব ফেলে। এই পরীক্ষা আপনার শরীরে থাইরয়েড হরমোনের প্রোফাইল চেক করে। এতে জানতে পারা যায় থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে আছে কি নেই। এই হরমোনের সমস্যা দেখা দিলে তারও থাকে লক্ষণ। আপনার ওজন যদি অকারণে বেড়ে যায়, মাসিকের সময়ের কোনও ঠিক থাকে না, থকন বুঝতে হবা আপনার থাইরয়েড থাকলেও থাকতে পারে। তবে মাসিকের সমস্যা PCOS এবং ডিপ্রেশনের কারণেও হতে পারে। সমস্যা এড়াতে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
ভিটামিন ডি এবং বি১২-এর মাত্রা-
ভিটামিন ডি এবং বি১২-এর ঘাটতি দেখা যায় মোটামুটি সব মহিলাদের শরীরে। খাদ্যাভাস ঠিক রাখলেও এই সমস্যা দেখা যায় মহিলাদের। ভিটামিনের ঘাটতি ব্রেন ফগ, অ্যানজাইটি, চুল পড়া, পেশীতে ব্যথ্যা, মুড সুইং নানা সমস্যা দেখা যায়। এই রোগের যথাযথ চিকিত্সা না হলে মাসিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি মানসিক চাপেরও সৃষ্টি হতে পারে। রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগকে শনাক্ত কার সম্ভব।
প্রজনন হরমোন প্যানেল(AMH, LH, FSH, Prolactin)-
এই পরীক্ষা প্রজনন হরমোনকে ঠিক রাখে। এই পরীক্ষায় ডিম্বাণুর মান, হরমোন ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করে। এছাড়া এই পরীক্ষা দ্বারা PCOS- এর প্রাথমিক লক্ষণও সনাক্ত করা যায়।
পেলভিক আলট্রাসাউন্ড-
এই পরীক্ষা রক্ত টেস্টের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়। এই পরীক্ষায় জরায়ু, ডিম্বাশয় এবং শ্রোণীর কাঠামো,ফাইব্রয়েড, ডিম্বাশয়ের সিস্ট, পিসিওএস, অথবা এন্ডোমেট্রিওসিস নান রোগ ধরা পরে। তবে বুঝবেন কী করে? কখন এই পরীক্ষা করাবেন? আপনার যদি মাসিক ঠিক সময় না হয়, হঠাত্ ওজন বেড়ে যাওয়া, মাসিকের সময় অসহ্য যন্ত্রণা। এছাড়া কোনও লক্ষণ না থাকলেও বছরে আকবার পরীক্ষা করানো আবশ্য়ক।
প্যাপ সম্মিয়ার এবং HPV পরীক্ষা-
জরায়ুর ক্যানসার, নিরাময় সম্ভব যদি সময়ের আগে ধরা পরে। প্যাপ স্মিয়ার টেস্টে, সার্ভিক্সের খারাপ সেল ধরা পরে। HPV পরীক্ষা মাধ্যমে ক্যানসারের সেল ধরা পরে। বিশেষজ্ঞদের মতে ২০ বছরের বেশি মহিলাদের এই পরীক্ষা করানো উচিত। এই পরীক্ষায় ব্যথ্যাও হয় না, এবং ভবিত্ষতের জন্য এই পরীক্ষা খুবই প্রয়োজনীয়।
ব্লাড সুগারএবং লিপিড প্রোফাইল-
ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যা ভাবছেন শুধু মাত্র বয়স্কদেরই হয়? ভুল ভাবছেন। ২০ বছরের পরই এই রোগ দেখা দিতে পারে। আপনার শরীরে কোলেস্টেরল সুপ্তভাবে বেড়ে উঠতে পারে। এই পরীক্ষায় বেড়ে যাওয়া রক্তের শর্করা, HbA1c, LDL/HDL, কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসেরাইড ধরা পরে।
STD প্যানেল-
এই রোগ শরীরে নানা সমস্যার দেখা দিতে পারে। ফার্টিলিটেতে সমস্যা দেখা দিতে পারে এই রোগ হলে। HIV, হেপাটাইটিস বি এং সি , ক্ল্যামেডিয়া, সিফিলিস, এবং গনোরিয়ার পরীক্ষা করানো উচিত। ডা. রঘুভানশি জানান মহিলাদের প্রজনন এবং শরীররে সামগ্রিক সুস্থতার জন্য এই পরীক্ষা আবশ্যক।
সারাদিনের কাজের চাপে অনেকেই নিজের শরীরের দিকে খেয়াল রাখতে পারেন না। তবে ডাক্তার মহল জানিয়েছেন রোগের লক্ষণ এড়াতে এড়াতে মানুষের রোগ শেষ পর্যায় গিয়ে ধরা পরে। ফলে সময় নিয়ে নিজের শরীরের দিকে নজড় দেওয়া আবশ্যক। ২০ বছরের পর মহিলাদের শরীরে অনেক পরিবর্তন দেখা যায় এবং সমস্যারও সৃষ্টি হয়। ফলে জটিল সমস্যা এড়াতে নিয়মিত পরীক্ষা করানো আবশ্যক। ভবিষ্যতের কথা ভেবে রেগের লক্ষণ এড়িয়ে না গিয়ে সঠিক সময় সঠিক ব্যবস্থা নিন।
(Feed Source: zeenews.com)
