
Weekend Tour Destination: বহু প্রাচীন বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো হয়েছিল গড়জঙ্গলের এই শ্যামারূপা মন্দিরে বলে দাবি মন্দিরের সেবায়েতের।দুর্গাপুজোয় এখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। সেখানে রয়েছে মেধস মুনির আশ্রম। রাজা সুরথ সেখানে দেবী দুর্গার পুজো করেছিলেন বলে কথিত আছে।
শ্যমরুপা মন্দির
দুর্গাপুর, দীপিকা সরকার : ঘন দুর্ভেদ্য জঙ্গলে ঘেরা বহু প্রাচীন এই মন্দির আজও ইতিহাস বহন করে চলেছে। ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর পাশাপাশি শাল – পিয়ালের ওই ঘন জঙ্গলে রয়েছে হরিণ,ময়ূর ও নেকড়ে বাঘ, শেয়াল, গন্ধগোকুল-সহ নানা প্রজাতির রঙবেরঙের পাখি। দর্শন করতে চাইলে সপরিবারে সামনের উইকএন্ডেই চলে আসতে পারেন আপনিও পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের গড় জঙ্গলে। দুর্গাপুর মহকুমার কাঁকসা ব্লকে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গভীর জঙ্গলেই রয়েছে গড়ের শ্যামরূপা মন্দির।
বহু প্রাচীন বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো হয়েছিল গড়জঙ্গলের এই শ্যামারূপা মন্দিরে বলে দাবি মন্দিরের সেবায়েতের।দুর্গাপুজোয় এখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। সেখানে রয়েছে মেধস মুনির আশ্রম। রাজা সুরথ সেখানে দেবী দুর্গার পুজো করেছিলেন বলে কথিত আছে। এলাকাটি একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ। সবুজ জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত মন্দির চত্বর প্রকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। জনশ্রুতি আছে কৃষ্ণভক্ত কবি জয়দেব ওই মন্দিরে এসে শ্যাম রূপে দেবী দুর্গার দর্শন পেয়েছিলেন, সেই থেকেই মন্দিরের নাম শ্যামরূপা মন্দির হয়। ওই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস।
মন্দির চত্বরে রয়েছে একটি ওয়াচ-টাওয়ার। ওই ওয়াচ-টাওয়ারে চড়লে দেখতে পাবেন ঘন জঙ্গলের একটি ওভারভিউ।যা সত্যিই মনমুগ্ধকর। মন্দিরের সেবায়েতের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ করলে শ্যামরূপার ভোগও পাবেন।ওই মন্দির থেকে কয়েক কিলোমিটার জঙ্গল পথে এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে হরিণের। সেখানে রয়েছে ইছাই ঘোষের প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন একটি মন্দির ও দেউল থিম পার্ক। সেখানে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে সুন্দর একটি কটেজ।শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য আছে খেলাধুলার সরঞ্জাম। জঙ্গলে ঘোরাঘুরি করতে করতে হঠাৎই মিলবে ময়ূরের দেখা। ঐতিহাসিক স্থান ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের অ্যাডভেঞ্চার এক্কেবারে অন্য স্বাদের।
