
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রত্নগিরি জেলার দাপোলি গ্রামে কাস্টমস বিভাগে এবং আহমেদাবাদে গ্রামীণ পুলিসের বড় অভিযান। গোয়া দুর্গের কাছে হারনাই সৈকত থেকে প্রায় ৪ কেজি বেশি অ্যাম্বারগ্রিস (ambergris) উদ্ধার করা হয়েছে, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য যথাক্রমে ৫ কোটি টাকা এবং ৩ কোটি টাকা মূল্যের তিমির বমি (Whale Vomit) সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ১২ আগস্টের পর আজ ১৮ আগস্ট উদ্ধার হয় এই দুর্মূল্য জিনিসটি।
অ্যাম্বারগ্রিস হল এক ধরনের মোমযুক্ত কঠিন পদার্থ যা স্পার্ম তিমির পরিপাকতন্ত্রে তৈরি হয়। এটি সুগন্ধি শিল্পে অত্যন্ত মূল্যবান উপকরণ কারণ এটি পারফিউমের ঘ্রাণকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর বিপুল চাহিদা রয়েছে।
তবে, ভারতের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন অনুসারে অ্যাম্বারগ্রিসের ব্যবসা নিষিদ্ধ। আইন অনুযায়ী ‘প্রথম তফসিল’ভুক্ত প্রাণীর উপাদান হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। এটি দাপোলি কাস্টমস বিভাগের একটি বিরল এবং উচ্চ-মূল্যের সাফল্য হিসেবে ধরা হয়েছে।
একটি গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত হারনাই সৈকতের কাছে গোয়া দুর্গে পৌঁছান। সেখানে তারা একটি সান্দ্র জেলি-সদৃশ পদার্থ খুঁজে পান, যা অ্যাম্বারগ্রিস বলে সন্দেহ করা হয়। পরবর্তীতে, রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য নমুনা পাঠানো হয় এবং পরে তা বন্যপ্রাণী বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।
আমদাবাদ পুলিস পরিদর্শক ডি.এন. প্যাটেল জানিয়েছেন, ‘আমরা একটি গোপন খবর পাই যে দুজন ব্যক্তি একটি তিমির বমি নিয়ে ভাট গ্রামের কাছে আসছেন। এরপর আমরা দল গঠন করে সেখানে ওত পেতে থাকি। আমরা ওই দুজনকে থামিয়ে তল্লাশি করি এবং তাদের গাড়ির একটি লুকানো কম্পার্টমেন্ট থেকে প্রায় ৩ কেজি অ্যাম্বারগ্রিস উদ্ধার করি।’
ধৃতদের নাম মহম্মদ রাঠোর এবং সইদ শেখ। তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২ এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে তিমির বমি কেনা-বেচা করা নিষিদ্ধ।
পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কোনো ব্যক্তি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এই ধরনের অবৈধ বাণিজ্যের শিকড় খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, তিমি যখন স্কুইড বা এ ধরনের অখাদ্য কিছু খায়, তখন সেগুলো তাদের পরিপাকতন্ত্রে জমা হয়। এই পদার্থগুলো থেকে তাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা করার জন্য অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হয়। এরপর এটি তিমি থেকে বেরিয়ে সমুদ্রে ভেসে বেড়ায়। ভারতের উপকূলে গত পাঁচ বছরে এমন ভাসমান অ্যাম্বারগ্রিস উদ্ধারের ঘটনা খুবই কম ঘটেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
