
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) মান্ডি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিজেপি (BJP) সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut)। বৃহস্পতিবার হিমাচল প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করে নিজের রেস্তোরাঁয় আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “গতকাল আমার রেস্তোরাঁয় মাত্র ৫০ টাকার বিক্রি হয়েছে, আর আমাকে বেতন বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা দিতে হয়। দয়া করে আমার কষ্টটাও বুঝুন। আমিও একজন হিমাচলি এবং এই এলাকার বাসিন্দা।” কঙ্গনার নির্বাচনী এলাকার অসংখ্য পরিবার ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করছে, তার মাঝে দাঁড়িয়ে কঙ্গনার এই মন্তব্যে হতবাক সকলে।
চলতি বছরের শুরুতে মানালিতে ‘দ্য মাউন্টেন স্টোরি’ নামে একটি রেস্তোরাঁ চালু করেছিলেন কঙ্গনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রচার করেছিলেন যে এই ক্যাফেতে হিমাচলি খাবার পরিবেশন করা হবে। পর্যটন নির্ভর এই এলাকার ব্যবসা এখন বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোলাং ও পালচান সফরের সময় কঙ্গনার সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা এবং মানালির প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ সিং ঠাকুর। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে অবহিত করেন। তাঁরা জানান, ১৫ থেকে ১৬টি বাড়িকে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা কঙ্গনাকে জানান যে পুরো সোলাং গ্রামটি ভূমিধসের আশঙ্কায় রয়েছে, কারণ বিয়াস নদী ধীরে ধীরে সেই পাহাড়ের মাটি ক্ষয় করছে যার ওপর এই জনবসতিটি অবস্থিত। তাঁরা বলেন, আরও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা জরুরি।
এদিকে, আবহাওয়া দফতর বিলাসপুর, কাংড়া, মান্ডি এবং সিরমৌর জুড়ে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়ের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার হিমাচল প্রদেশের বেশ কিছু অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মোট ৫৬৬টি রাস্তা বন্ধ ছিল, যার মধ্যে দুটি জাতীয় সড়কও রয়েছে – এন এইচ থ্রি এবং এন এইচ ৫০৩এ। এর মধ্যে ২০৩টি রাস্তা মান্ডিতে, ১৫৬টি কুল্লুতে এবং ৫০টি শিমলায় বন্ধ রয়েছে।
হিমাচল প্রদেশ রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০শে জুন থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মরসুমে রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৪১৯ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ২৩৭টি মৃত্যু বৃষ্টি-সম্পর্কিত। এর মধ্যে ৫২ জন ভূমিধসে, ৪৫ জন খাড়া ঢাল থেকে পড়ে, ৪০ জন জলে ডুবে, ১৭ জন মেঘভাঙা বৃষ্টিতে এবং ১১ জন আকস্মিক বন্যায় মারা গেছেন। একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কঙ্গনার নিজের রেস্তোরাঁ নিয়ে মন্তব্য শুনে অবাক নেটপাড়া। কীভাবে এতটা অমানবিক হতে পারেন কঙ্গনা, প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
(Feed Source: zeenews.com)
