জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সংবিধান অনুসারে ৭০ বছর হয়ে যাওয়ার পর আর বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট (BCCI President) পদে আর থাকা যায় না। ঠিক সেই নিয়ম মেনেই রজার বিনি (Roger Binny) অনেক দিন আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন সিংহাসন। বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা (Rajeev Shukla) অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন বেশ কিছুদিন। তবে এবার রাজীবের কাজ শেষ বিনির জুতোয় পা গলিয়ে পাকাপাকি ভাবে বোর্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন মিঠুন মানহাস (Mithun Manhas)।
মিঠুন মানহাস
শনিবার ২৮ সেপ্টেম্বর আজ মুম্বইয়ে বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভা ওরফে এজিএমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পদে মিঠুনই এলেন। জল্পনাই সত্যি প্রমাণিত হল। অতীতে মিঠুন দলীপ ট্রফির জন্য উত্তর অঞ্চলের আহ্বায়ক ছিলেন এবং তিনি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি গুজরাট টাইটান্সের সাপোর্ট স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন। মিঠুন জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (জেকেসিএ) প্রশাসক হিসেবেও কাজ করছেন।
কে কোন পদে?
রাজীবকে বোর্ডের সহ-সভাপতি ওরফে মিঠুনের ডেপুটি হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। দেবজিৎ সাইকিয়াকে বিসিসিআই সচিব হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রভতেজ সিং ভাটিয়া যুগ্ম সম্পাদকের ভূমিকা পালন করবেন, রঘুরাম ভাট বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ হবেন। অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একমাত্র সদস্য হিসেবে জয়দেব নিরঞ্জন শাহের নির্বাচনের এই কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। এছাড়াও, অরুণ সিং ধুমাল এবং এম. খায়রুল জামাল মজুমদারকেও গভর্নিং কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নতুন বিসিসিআই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় মিঠুন মানহাসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের হটসিটে বসার পর।
মিঠুনের ক্রিকেট কেরিয়ার
মিঠুন কখনও ভারতের হয়ে অভিষেকের সুযোগ পাননি, তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি পরিচিত নাম ছিলেন। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, পুণে ওয়ারিয়র্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের হয়েও মিঠুন খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে মিঠুন ছিলেন দিল্লির অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে খেলেছেন বিরাট কোহলিও। ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মিঠুন ঘরোয়া ক্রিকেটে দিল্লির হয়ে খেলেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি জম্মু-কাশ্মীরে চলে যান এবং পরের বছর অবসর গ্রহণ করেন। মিঠুন ১৫৭টি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৯৭১৪ রান করেছেন। যার মধ্যে ২৭টি সেঞ্চুরি এবং ৪৯টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে অপরাজিত ২০৫* রান তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
১৩০টি লিস্ট এ ম্যাচে মিঠুন ৪৫.৮৪ গড়ে ৪,১২৬ রান করেছেন, যার মধ্যে ৫টি সেঞ্চুরি এবং ২৬টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও তাঁর পারফরম্য়ান্স প্রশংসনীয়। ৭২টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তার ১১৭০ রান রয়েছে। দিল্লি-পুণে-চেন্নাইয়ের হয়ে ৩৮ আইপিএল ইনিংসে ৫১৪ রান করেছেন। ক্রিকেট কেরিয়ার শেষ করে মিঠুন মনোনিবেশ করেন কোচিংয়ে। ২০১৭ সালে পঞ্জাব কিংসের (পূর্বে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) এর সহকারি কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালে তাঁকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সহকারি কোচ হিসেবে পাওয়া গিয়েছে। এবং ২০২২ সালে, তিনি গুজরাত টাইটান্সের সহকারী কোচ হয়েছিলেন।
(Feed Source: zeenews.com)
