‘সংখ্যালঘু নির্যাতনে রেকের্ডধারী দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বক্তৃতা বিদ্রুপ ছাড়া কিছুই নয়।’ রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬০তম অধিবেশনে ফের পাকিস্তানের ভণ্ডামির তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। ভারতীয় কূটনীতিক মহম্মদ হোসেন পাকিস্তানের বারবার উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে অপপ্রচার ছড়ানোর নিন্দা করেছেন।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতীয় কূটনীতিক বলেন, ‘পাকিস্তানের মতো একটি দেশ অন্যদের মানবাধিকার নিয়ে বক্তৃতা দিতে চায়, ভারত এটাকে বিদ্রূপ বলে মনে করে। অপপ্রচার ছড়ানোর পরিবর্তে, পাকিস্তানের উচিত তাদের দেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের মোকাবিলা করা।’ সম্প্রতি পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় শাহবাজ শরিফ সরকারের বিমান হামলায় সে দেশেরই অন্তত ২৩ নাগরিক নিহত হয়েছে। তারপরেই বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু ভারত নয়, মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহলও। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক গবেষক জোশ বোয়েস ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স-এ পাকিস্তান ১৫৮তম স্থানে রয়েছে বলে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘২০২৫-র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (ইউএসসিআইআরএফ) বলা হয়েছে, পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৭০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি জেলে রয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৩০০ শতাংশ বেশি।’ এরপরেই জোশ বোয়েস বেলুচিস্তানের জনগণ যে নৃশংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বেলুচ ন্যাশনাল মুভমেন্টের মানবাধিকার সংস্থা শুধুমাত্র ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ৭৮৫টি জোরপূর্বক নিখোঁজ এবং ১২১টি হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। পশতুন জাতীয় জিরগা (পশতুন নেতাদের সমাবেশ) জানিয়েছে যে ২০২৫ সালে, ৪০০০ পশতুন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।’ মানবাধিকার কর্মী আরিফ আজাকিয়াও পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশগুলি দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক অভিযানের সম্মুখীন হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক নিখোঁজ এবং নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্ট করা হয়েছে।
(Feed Source: hindustantimes.com)
